Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

কালীঘাটে যখন মেগা বৈঠক, তখন কামারহাটিতে মদনের বাড়ির তালা ভাঙল পুলিশ! নেপথ্যে কোন মারাত্মক কেলেঙ্কারি?

কালীঘাটে যখন মেগা বৈঠক, তখন কামারহাটিতে মদনের বাড়ির তালা ভাঙল পুলিশ! নেপথ্যে কোন মারাত্মক কেলেঙ্কারি?
মদনের কামারহাটির বাড়িতে তালা ভেঙে ঢুকল পুলিশ। ছবি-সংগৃহীত

কামারহাটি: একদিকে যখন দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই উত্তর চব্বিশ পরগনার কামারহাটিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও চরম নাটকীয় ঘটনা! কামারহাটির দাপুটে ও ‘কালারফুল’ তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বিলাসবহুল বাড়িতে আচমকাই হানা দিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। রবিবার দুপুরে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতে খোদ বিধায়কের বাড়ির সদর দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলে এই হাইপ্রোফাইল তল্লাশি অভিযান। রাজ্যের এই হেভিওয়েট নেতার ডেরায় পুলিশের এমন অতর্কিত ও আগ্রাসী হানা ঘিরে বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনা তো বটেই, গোটা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটির ওই বিশেষ বাড়িটির নাম ‘উদয় ভিলা’। মূলত এখানে বসেই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র তাঁর এলাকার যাবতীয় দলীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতেন এবং এখানে তাঁর একটি বড় কার্যালয়ও রয়েছে। রবিবার বেলা একটা নাগাদ হঠাৎ করেই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এক বিশাল পুলিশ বাহিনী ‘উদয় ভিলা’ চত্বর ঘিরে ফেলে। সেই সময় বাড়িটি সম্পূর্ণ জনশূন্য এবং বাইরে থেকে তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। কোনো লুকোছাপা না করে পুলিশ সরাসরি সেই তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরের প্রতিটি কোণায় তল্লাশি চালাতে শুরু করে। দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর বাড়ি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। কাজ শেষ হতেই বাড়িটি পুনরায় বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে এলাকা ছাড়েন তদন্তকারীরা।

কিন্তু হঠাৎ কেন খোদ শাসকদলের বিধায়কের বাড়িতে এভাবে তালা ভেঙে ঢুকল পুলিশ? তদন্তকারীদের সূত্রে প্রাথমিক যে তথ্য উঠে আসছে, তা অত্যন্ত বিস্ফোরক। অভিযোগ, যে বিপুল পরিমাণ জমির ওপর এই ‘উদয় ভিলা’ বা মদন মিত্রের কার্যালয়টি গড়ে উঠেছে, সেটি আসলে একটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন জমি! একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বা কেন্দ্রীয় সংস্থার জমি কীভাবে বেআইনিভাবে জবরদখল করে এমন বিলাসবহুল ইমারত ও রাজনৈতিক কার্যালয় তৈরি করা হলো, মূলত সেই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতেই এই মেগা অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই বাড়িতে মাঝেসাঝেই এসে রাত কাটাতেন মদন মিত্র। তবে এই বিতর্কিত সম্পত্তি ও বাড়ির আসল মালিকানা খোদ কামারহাটির বিধায়কের নামে রয়েছে নাকি অন্য কারও, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ বাজেয়াপ্ত নথিপত্র ঘেঁটে এই বেআইনি নির্মাণের উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে।

এদিকে এই ঝোড়ো অভিযানের সময় কামারহাটিতে উপস্থিত ছিলেন না খোদ বিধায়ক। মদন মিত্রের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, কামারহাটির বিধায়ক এখন তাঁর দক্ষিণ কলকাতার নিজের বাসভবনে রয়েছেন। আসলে রবিবারই তৃণমূলের নবনির্বাচিত ও জয়ী ৮০ জন বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটের নিজস্ব বাসভবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণের এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্যই মদন মিত্র দক্ষিণ কলকাতায় রয়েছেন বলে তাঁর অনুগামীদের দাবি। তবে তিনি যখন কলকাতায় দলীয় বৈঠকে ব্যস্ত, তখন তাঁর কামারহাটির দুর্গে পুলিশের এই হাতুড়ি চালানো এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews barrackporepolice landscam MadanMitra KamarhatiRaid KolkataPolitics

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


কালীঘাটে যখন মেগা বৈঠক, তখন কামারহাটিতে মদনের বাড়ির তালা ভাঙল পুলিশ! নেপথ্যে কোন মারাত্মক কেলেঙ্কারি?

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image
কামারহাটি: একদিকে যখন দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই উত্তর চব্বিশ পরগনার কামারহাটিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও চরম নাটকীয় ঘটনা! কামারহাটির দাপুটে ও ‘কালারফুল’ তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বিলাসবহুল বাড়িতে আচমকাই হানা দিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। রবিবার দুপুরে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতে খোদ বিধায়কের বাড়ির সদর দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলে এই হাইপ্রোফাইল তল্লাশি অভিযান। রাজ্যের এই হেভিওয়েট নেতার ডেরায় পুলিশের এমন অতর্কিত ও আগ্রাসী হানা ঘিরে বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনা তো বটেই, গোটা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটির ওই বিশেষ বাড়িটির নাম ‘উদয় ভিলা’। মূলত এখানে বসেই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র তাঁর এলাকার যাবতীয় দলীয় কাজকর্ম পরিচালনা করতেন এবং এখানে তাঁর একটি বড় কার্যালয়ও রয়েছে। রবিবার বেলা একটা নাগাদ হঠাৎ করেই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এক বিশাল পুলিশ বাহিনী ‘উদয় ভিলা’ চত্বর ঘিরে ফেলে। সেই সময় বাড়িটি সম্পূর্ণ জনশূন্য এবং বাইরে থেকে তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। কোনো লুকোছাপা না করে পুলিশ সরাসরি সেই তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরের প্রতিটি কোণায় তল্লাশি চালাতে শুরু করে। দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে চিরুনি তল্লাশি চালানোর পর বাড়ি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। কাজ শেষ হতেই বাড়িটি পুনরায় বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে এলাকা ছাড়েন তদন্তকারীরা।কিন্তু হঠাৎ কেন খোদ শাসকদলের বিধায়কের বাড়িতে এভাবে তালা ভেঙে ঢুকল পুলিশ? তদন্তকারীদের সূত্রে প্রাথমিক যে তথ্য উঠে আসছে, তা অত্যন্ত বিস্ফোরক। অভিযোগ, যে বিপুল পরিমাণ জমির ওপর এই ‘উদয় ভিলা’ বা মদন মিত্রের কার্যালয়টি গড়ে উঠেছে, সেটি আসলে একটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন জমি! একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বা কেন্দ্রীয় সংস্থার জমি কীভাবে বেআইনিভাবে জবরদখল করে এমন বিলাসবহুল ইমারত ও রাজনৈতিক কার্যালয় তৈরি করা হলো, মূলত সেই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতেই এই মেগা অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই বাড়িতে মাঝেসাঝেই এসে রাত কাটাতেন মদন মিত্র। তবে এই বিতর্কিত সম্পত্তি ও বাড়ির আসল মালিকানা খোদ কামারহাটির বিধায়কের নামে রয়েছে নাকি অন্য কারও, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ বাজেয়াপ্ত নথিপত্র ঘেঁটে এই বেআইনি নির্মাণের উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে।এদিকে এই ঝোড়ো অভিযানের সময় কামারহাটিতে উপস্থিত ছিলেন না খোদ বিধায়ক। মদন মিত্রের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, কামারহাটির বিধায়ক এখন তাঁর দক্ষিণ কলকাতার নিজের বাসভবনে রয়েছেন। আসলে রবিবারই তৃণমূলের নবনির্বাচিত ও জয়ী ৮০ জন বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটের নিজস্ব বাসভবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণের এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্যই মদন মিত্র দক্ষিণ কলকাতায় রয়েছেন বলে তাঁর অনুগামীদের দাবি। তবে তিনি যখন কলকাতায় দলীয় বৈঠকে ব্যস্ত, তখন তাঁর কামারহাটির দুর্গে পুলিশের এই হাতুড়ি চালানো এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার