Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মরুভূমির বুকে পরমাণু অস্ত্রের ‘পাতাললোক’? চিনের অষ্টভূজাকৃতির বাঙ্কার ও লঞ্চপ্যাডের ছবি ফাঁস উপগ্রহচিত্রে!

মরুভূমির বুকে পরমাণু অস্ত্রের ‘পাতাললোক’? চিনের অষ্টভূজাকৃতির বাঙ্কার ও লঞ্চপ্যাডের ছবি ফাঁস উপগ্রহচিত্রে!
ছবি সংগৃহীত

বেজিং: ধু ধু মরুভূমির মাঝে এক রহস্যময় অষ্টভুজাকৃতির নকশা! প্রথম নজরে সাধারণ কোনও পরিকাঠামো মনে হলেও, আসলে তা চিনের এক সুবিশাল ও অত্যাধুনিক সামরিক ঘাঁটি! আমেরিকার সম্ভাব্য হামলা থেকে নিজেদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে এবং পাল্টা আঘাত হানার বিকল্প ব্যবস্থা মজবুত করতে জিনজিয়াং প্রদেশের মরুভূমিতে এই গোপন ‘পাতাললোক’ তৈরি করছে বেজিং। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত সাম্প্রতিক কিছু উপগ্রহচিত্রে চিনের এই অতি-গোপন সামরিক তৎপরতার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।


উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, পূর্ব জিনজিয়াংয়ের এই সাইলো অঞ্চলে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রের ঠিক পাশেই গড়ে উঠছে নতুন এই সামরিক পরিকাঠামো। গত ছয় বছর ধরে চলা এই নির্মাণকাজে তৈরি হয়েছে কয়েকশো বাঙ্কার ও ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিক লঞ্চপ্যাড। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের হাতে এমন কিছু পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা আমেরিকার বহু শহরে আঘাত হানতে সক্ষম। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আমেরিকার নাগাল থেকে সেইসব অস্ত্র সুরক্ষিত রাখতেই এই মরুভূমিকে বেছে নিয়েছে লালফৌজ। 


এই ঘাঁটির উত্তর এবং দক্ষিণ কোণে তৈরি হওয়া শত শত লঞ্চপ্যাড এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে যুদ্ধ বাধলে সেগুলিকে চোখের পলকে সক্রিয় করা যায়। শুধু লঞ্চপ্যাডই নয়, এই বিশাল চত্বরে সেনাছাউনি, সামরিক বাহন রাখার জায়গা এবং একটি হাইটেক কমান্ড সেন্টারও তৈরি করা হচ্ছে। ঘাঁটিটিকে সচল রাখতে চারপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থারও আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নতুন সড়ক, রেললাইন এবং বিমানঘাঁটি।


এই উপগ্রহচিত্র প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ‘হাওয়াই প্যাসিফিক ফোরাম’ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সদস্য আলেকজান্ডার নিল জানিয়েছেন, মরুভূমির মাঝে কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে চিন কার্যত এক অদৃশ্য পরমাণু সাম্রাজ্য গড়ে তুলছে। ডুবোজাহাজ, রণতরী এবং যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ভূমি থেকেও যাতে নিখুঁতভাবে পরমাণু হামলা চালানো যায়, এটি তারই পাকাপাকি বন্দোবস্ত। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক টানাপড়েনের আবহে এই ছবি নতুন করে পারদ চড়িয়েছে। সম্প্রতি পেন্টাগনের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে ১,০০০টি পরমাণু অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে চিন। সেই রিপোর্টের পরই চিনের এই ভূগর্ভস্থ অস্ত্রঘাঁটির ছবি সামনে আসায় ঘুম উড়েছে ওয়াশিংটনের।

বিষয় : CHINAMILITARY GLOBALDEFENSEUPDATE PENTAGONREPORT USCHINATENSION SATELLITEIMAGES

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


মরুভূমির বুকে পরমাণু অস্ত্রের ‘পাতাললোক’? চিনের অষ্টভূজাকৃতির বাঙ্কার ও লঞ্চপ্যাডের ছবি ফাঁস উপগ্রহচিত্রে!

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image
বেজিং: ধু ধু মরুভূমির মাঝে এক রহস্যময় অষ্টভুজাকৃতির নকশা! প্রথম নজরে সাধারণ কোনও পরিকাঠামো মনে হলেও, আসলে তা চিনের এক সুবিশাল ও অত্যাধুনিক সামরিক ঘাঁটি! আমেরিকার সম্ভাব্য হামলা থেকে নিজেদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে এবং পাল্টা আঘাত হানার বিকল্প ব্যবস্থা মজবুত করতে জিনজিয়াং প্রদেশের মরুভূমিতে এই গোপন ‘পাতাললোক’ তৈরি করছে বেজিং। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত সাম্প্রতিক কিছু উপগ্রহচিত্রে চিনের এই অতি-গোপন সামরিক তৎপরতার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, পূর্ব জিনজিয়াংয়ের এই সাইলো অঞ্চলে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রের ঠিক পাশেই গড়ে উঠছে নতুন এই সামরিক পরিকাঠামো। গত ছয় বছর ধরে চলা এই নির্মাণকাজে তৈরি হয়েছে কয়েকশো বাঙ্কার ও ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিক লঞ্চপ্যাড। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের হাতে এমন কিছু পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা আমেরিকার বহু শহরে আঘাত হানতে সক্ষম। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আমেরিকার নাগাল থেকে সেইসব অস্ত্র সুরক্ষিত রাখতেই এই মরুভূমিকে বেছে নিয়েছে লালফৌজ। এই ঘাঁটির উত্তর এবং দক্ষিণ কোণে তৈরি হওয়া শত শত লঞ্চপ্যাড এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে যুদ্ধ বাধলে সেগুলিকে চোখের পলকে সক্রিয় করা যায়। শুধু লঞ্চপ্যাডই নয়, এই বিশাল চত্বরে সেনাছাউনি, সামরিক বাহন রাখার জায়গা এবং একটি হাইটেক কমান্ড সেন্টারও তৈরি করা হচ্ছে। ঘাঁটিটিকে সচল রাখতে চারপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থারও আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নতুন সড়ক, রেললাইন এবং বিমানঘাঁটি।এই উপগ্রহচিত্র প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ‘হাওয়াই প্যাসিফিক ফোরাম’ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সদস্য আলেকজান্ডার নিল জানিয়েছেন, মরুভূমির মাঝে কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে চিন কার্যত এক অদৃশ্য পরমাণু সাম্রাজ্য গড়ে তুলছে। ডুবোজাহাজ, রণতরী এবং যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ভূমি থেকেও যাতে নিখুঁতভাবে পরমাণু হামলা চালানো যায়, এটি তারই পাকাপাকি বন্দোবস্ত। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক টানাপড়েনের আবহে এই ছবি নতুন করে পারদ চড়িয়েছে। সম্প্রতি পেন্টাগনের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে ১,০০০টি পরমাণু অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে চিন। সেই রিপোর্টের পরই চিনের এই ভূগর্ভস্থ অস্ত্রঘাঁটির ছবি সামনে আসায় ঘুম উড়েছে ওয়াশিংটনের।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার