Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

উদ্বোধনের ১ বছর কাটতেই হুড়মুড়িয়ে বসছে ব্রিজ! তাসের ঘরের মতো দশা ১৩৮ কোটির প্রকল্পের, কাঠগড়ায় দিদির জমানা

উদ্বোধনের ১ বছর কাটতেই হুড়মুড়িয়ে বসছে ব্রিজ! তাসের ঘরের মতো দশা ১৩৮ কোটির প্রকল্পের, কাঠগড়ায় দিদির জমানা
AI GENERATED PICTURE

বোলপুর: তৃণমূল সরকারের আমলে যে মেগা প্রকল্প নিয়ে একেবারে ঢাকঢোল পিটিয়ে হইচই করা হয়েছিল, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তার কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়ল। গত বছর ধুমধাম করে উদ্বোধন হওয়া বীরভূমের বিখ্যাত জয়দেব সেতুর রাস্তা এবার হুড়মুড়িয়ে বসতে শুরু করেছে। ব্রিজের একাধিক জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার স্পষ্ট চওড়া ফাটল। আর এই ভয়ঙ্কর ছবি সামনে আসতেই তেরোশো কোটির নয়, খোদ ১৩৮ কোটির এই সেতু প্রকল্প নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠছে, নির্মাণের সময় চূড়ান্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার ফলেই আজ এই দশা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে এবং কাটমানি সংস্কৃতির জেরেই যে সেতুর এই হাল, তা নিয়ে সুর চড়িয়েছে গেরুয়া শিবির।


দীর্ঘদিন ধরেই বীরভূমের জয়দেব এবং পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বিদবিহারকে যুক্ত করার জন্য অজয় নদের ওপর একটি ব্রিজের দাবি জানাচ্ছিলেন দুই পারের মানুষ। সেই দাবি মেনেই পূর্তদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় এই সেতু। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু প্রতীক্ষিত এই জয়দেব সেতুর উদ্বোধন করেছিলেন। সেতুটি চালু হওয়ায় দুর্গাপুর থেকে বোলপুর এবং সিউড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সহজ হয়েছিল, তেমনই স্বস্তি পেয়েছিলেন নিত্যযাত্রীরা। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই স্বস্তি এখন চরম আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।


সেতুর বিভিন্ন অংশে রাস্তা বসে যাওয়ার এই মরণফাঁদ মূলত সেইসব জায়গায় বেশি দেখা যাচ্ছে, যেখান দিয়ে নিয়মিত ভারী বালি ও পাথর বোঝাই ট্রাক, ডাম্পার এবং মালবাহী গাড়ি চলাচল করে। ওভারলোডেড গাড়ির চাকার চাপ পড়তেই তাসের ঘরের মতো বসে গিয়েছে রাস্তার পিচ। স্থানীয়দের একাংশের সোজা অভিযোগ, এত কোটি টাকা খরচ করার পরেও যদি এক বছরের মধ্যে ব্রিজের এই হাল হয়, তবে ইঞ্জিনিয়ার আর ঠিকাদাররা মিলে সরকারি টাকা লুটেপুটে খেয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কেন একটা টেকসই কাজ হলো না, তা নিয়ে এখন বীরভূম ও বর্ধমানের সংযোগকারী এই সেতুতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী জনতা।


এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণে বিঁধেছেন দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জয়দেব সেতুর বিভিন্ন অংশ যেভাবে বসে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এই জমানায় এটাই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে দপ্তরের ঠিকাসংস্থা এই কাজ করেছে, তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিধায়ক আরও জানান, তিনি ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি জেলাশাসককে জানাচ্ছেন এবং কেন এত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হলো, তার পেছনে কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি রয়েছে কি না, তা নিয়ে সরকারি স্তরে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে।

বিষয় : WestBengalPolitics BIRBHUMNEWS BridgeCollapse ajoysetuscam corruptionalert

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


উদ্বোধনের ১ বছর কাটতেই হুড়মুড়িয়ে বসছে ব্রিজ! তাসের ঘরের মতো দশা ১৩৮ কোটির প্রকল্পের, কাঠগড়ায় দিদির জমানা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image
বোলপুর: তৃণমূল সরকারের আমলে যে মেগা প্রকল্প নিয়ে একেবারে ঢাকঢোল পিটিয়ে হইচই করা হয়েছিল, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তার কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়ল। গত বছর ধুমধাম করে উদ্বোধন হওয়া বীরভূমের বিখ্যাত জয়দেব সেতুর রাস্তা এবার হুড়মুড়িয়ে বসতে শুরু করেছে। ব্রিজের একাধিক জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার স্পষ্ট চওড়া ফাটল। আর এই ভয়ঙ্কর ছবি সামনে আসতেই তেরোশো কোটির নয়, খোদ ১৩৮ কোটির এই সেতু প্রকল্প নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠছে, নির্মাণের সময় চূড়ান্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার ফলেই আজ এই দশা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে এবং কাটমানি সংস্কৃতির জেরেই যে সেতুর এই হাল, তা নিয়ে সুর চড়িয়েছে গেরুয়া শিবির।দীর্ঘদিন ধরেই বীরভূমের জয়দেব এবং পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বিদবিহারকে যুক্ত করার জন্য অজয় নদের ওপর একটি ব্রিজের দাবি জানাচ্ছিলেন দুই পারের মানুষ। সেই দাবি মেনেই পূর্তদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় এই সেতু। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু প্রতীক্ষিত এই জয়দেব সেতুর উদ্বোধন করেছিলেন। সেতুটি চালু হওয়ায় দুর্গাপুর থেকে বোলপুর এবং সিউড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সহজ হয়েছিল, তেমনই স্বস্তি পেয়েছিলেন নিত্যযাত্রীরা। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই স্বস্তি এখন চরম আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।সেতুর বিভিন্ন অংশে রাস্তা বসে যাওয়ার এই মরণফাঁদ মূলত সেইসব জায়গায় বেশি দেখা যাচ্ছে, যেখান দিয়ে নিয়মিত ভারী বালি ও পাথর বোঝাই ট্রাক, ডাম্পার এবং মালবাহী গাড়ি চলাচল করে। ওভারলোডেড গাড়ির চাকার চাপ পড়তেই তাসের ঘরের মতো বসে গিয়েছে রাস্তার পিচ। স্থানীয়দের একাংশের সোজা অভিযোগ, এত কোটি টাকা খরচ করার পরেও যদি এক বছরের মধ্যে ব্রিজের এই হাল হয়, তবে ইঞ্জিনিয়ার আর ঠিকাদাররা মিলে সরকারি টাকা লুটেপুটে খেয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কেন একটা টেকসই কাজ হলো না, তা নিয়ে এখন বীরভূম ও বর্ধমানের সংযোগকারী এই সেতুতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী জনতা।এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণে বিঁধেছেন দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জয়দেব সেতুর বিভিন্ন অংশ যেভাবে বসে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এই জমানায় এটাই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে দপ্তরের ঠিকাসংস্থা এই কাজ করেছে, তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিধায়ক আরও জানান, তিনি ইতিমধ্যেই পুরো বিষয়টি জেলাশাসককে জানাচ্ছেন এবং কেন এত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হলো, তার পেছনে কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি রয়েছে কি না, তা নিয়ে সরকারি স্তরে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার