Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ডিগবাজি খেতে চাওয়া টলিউড তারকাদের ‘নো-এন্ট্রি’! পরমব্রত-ঋতব্রতদের জন্য বন্ধ দরজা, কড়া বার্তা শমীকের

ডিগবাজি খেতে চাওয়া টলিউড তারকাদের ‘নো-এন্ট্রি’! পরমব্রত-ঋতব্রতদের জন্য বন্ধ দরজা, কড়া বার্তা শমীকের
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই আর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর অবশেষে বাংলার মসনদ দখল করেছে বিজেপি। ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’— এই স্লোগানে ভর করেই বঙ্গে নতুন ভোরের সূচনা করেছে পদ্ম শিবির। তবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে সবথেকে বড় যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল, তা হলো— এবার কি তবে ডিগবাজি খেয়ে দলে দলে তৃণমূলের চেনা মুখ কিংবা বাম-মনোভাবাপন্ন বুদ্ধিজীবীরা বিজেপিতে ভিড়তে শুরু করবেন?


 সেই বেনোজল ঠেকাতে এবার প্রথম দিন থেকেই এক্কেবারে ‘সিংহদুয়ার’ বন্ধ করার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিন দুয়েক আগে দিল্লির বঙ্গভবনের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর মাত্র ৪০ সেকেন্ডের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার পারদ চড়ছিল, ঠিক তখনই অত্যন্ত কড়া ভাষায় শমীক সাফ জানিয়ে দিলেন, “দলের দরজা এদের জন্য চিরতরে বন্ধ।”


তৃণমূলের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর অন্য দলের যে একঝাঁক নেতা-নেত্রী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এখন বিজেপির নৌকায় ওঠার জন্য চাতকের মতো ছটফট করছেন, তা খুব ভালো করেই টের পাচ্ছেন গেরুয়া শীর্ষ নেতৃত্ব। আড়ালে-আবডালে অনেকেই যে দলে ঢোকার জন্য তদ্বির শুরু করেছেন, তা আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। কবীর সুমনের চেনা লাইনের রেশ টেনে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “দরজার ভেতরে অনেকেই এখন ‘অবনী’কে খুঁজে বেড়াচ্ছেন! কেউ যদি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে আসতে চান, দল নিশ্চয়ই তাঁর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে। কিন্তু যাঁরা গত কয়েক বছর ধরে সিন্ডিকেট রাজ চালিয়েছেন, কয়লা-বালি পাচার কিংবা শিক্ষক নিয়োগের মতো জঘন্য চাকরি বিক্রির দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা কোনও দিনও খুলবে না।”


গত কয়েকদিন ধরেই টলিপাড়ার প্রথম সারির অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের একটি ‘সদ্যজাত’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে জোর জলঘোলা চলছে। নেটিজেনদের একাংশ তো পরমব্রতর এই ভোলবদল বা ‘পাল্টি’ খাওয়া নিয়ে চরম ট্রোল শুরু করেছেন। political মহলে ফিসফাস শুরু হয়েছিল, তবে কি এবার পরমব্রতও গেরুয়া ঝড়ে গা ভাসিয়ে তাঁর পরম বন্ধু তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের হাত ধরে পদ্ম ডেরায় সামিল হতে চলেছেন? এই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য এক্কেবারে চাঁছাছোলা ভাষায় নাম করে জানিয়ে দেন, “কোনও ঋতব্রত, কোনও পরমব্রত... এদের কারও জন্যই বিজেপির দরজা খোলা নেই। যাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে, মার খেয়ে সক্রিয় কর্মী হিসেবে মাঠে লড়াই করে বিজেপিকে আজ বাংলার এই সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে এসেছেন, তাঁদের ভরসাতেই দল আগামী দিনে এগোবে। বিজেপির বাইরে থেকে কোনও ‘ইমপোর্ট’ বা আমদানি করার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই।”


শমীকের এই বিস্ফোরক ও কড়া বার্তা এক লহমায় স্পষ্ট করে দিল যে, দল ভারী করার চক্করে এবার আর ‘সব পেয়েছির আসর’ বসাতে রাজি নয় বিজেপি নেতৃত্ব। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনই যে নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, তা এই কঠোর অবস্থান থেকেই প্রমাণিত। অতীতে নির্বাচনের আগে দেদার দলবদলের যে নীতি নিয়ে দলের আদি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কোমর বাঁধছে মুরলীধর সেন লেনের কর্তারা। শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া ‘নো-এন্ট্রি’র বার্তা যে টলিপাড়ার একাধিক ডিগবাজি খেতে চাওয়া চেনা মুখ এবং শাসকদলের কোণঠাসা দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বুকে বড়সড় কাঁপন ধরিয়ে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিষয় : BJPWestBengal 'kolkatanews ShamikBhattacharya TOLLYWOODPOLITICS PARAMBRATACHATTERJEE TMCNOONENTRY

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ডিগবাজি খেতে চাওয়া টলিউড তারকাদের ‘নো-এন্ট্রি’! পরমব্রত-ঋতব্রতদের জন্য বন্ধ দরজা, কড়া বার্তা শমীকের

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই আর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর অবশেষে বাংলার মসনদ দখল করেছে বিজেপি। ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’— এই স্লোগানে ভর করেই বঙ্গে নতুন ভোরের সূচনা করেছে পদ্ম শিবির। তবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে সবথেকে বড় যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল, তা হলো— এবার কি তবে ডিগবাজি খেয়ে দলে দলে তৃণমূলের চেনা মুখ কিংবা বাম-মনোভাবাপন্ন বুদ্ধিজীবীরা বিজেপিতে ভিড়তে শুরু করবেন? সেই বেনোজল ঠেকাতে এবার প্রথম দিন থেকেই এক্কেবারে ‘সিংহদুয়ার’ বন্ধ করার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিন দুয়েক আগে দিল্লির বঙ্গভবনের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর মাত্র ৪০ সেকেন্ডের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার পারদ চড়ছিল, ঠিক তখনই অত্যন্ত কড়া ভাষায় শমীক সাফ জানিয়ে দিলেন, “দলের দরজা এদের জন্য চিরতরে বন্ধ।”তৃণমূলের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর অন্য দলের যে একঝাঁক নেতা-নেত্রী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এখন বিজেপির নৌকায় ওঠার জন্য চাতকের মতো ছটফট করছেন, তা খুব ভালো করেই টের পাচ্ছেন গেরুয়া শীর্ষ নেতৃত্ব। আড়ালে-আবডালে অনেকেই যে দলে ঢোকার জন্য তদ্বির শুরু করেছেন, তা আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। কবীর সুমনের চেনা লাইনের রেশ টেনে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “দরজার ভেতরে অনেকেই এখন ‘অবনী’কে খুঁজে বেড়াচ্ছেন! কেউ যদি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে আসতে চান, দল নিশ্চয়ই তাঁর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবে। কিন্তু যাঁরা গত কয়েক বছর ধরে সিন্ডিকেট রাজ চালিয়েছেন, কয়লা-বালি পাচার কিংবা শিক্ষক নিয়োগের মতো জঘন্য চাকরি বিক্রির দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা কোনও দিনও খুলবে না।”গত কয়েকদিন ধরেই টলিপাড়ার প্রথম সারির অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের একটি ‘সদ্যজাত’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে জোর জলঘোলা চলছে। নেটিজেনদের একাংশ তো পরমব্রতর এই ভোলবদল বা ‘পাল্টি’ খাওয়া নিয়ে চরম ট্রোল শুরু করেছেন। political মহলে ফিসফাস শুরু হয়েছিল, তবে কি এবার পরমব্রতও গেরুয়া ঝড়ে গা ভাসিয়ে তাঁর পরম বন্ধু তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের হাত ধরে পদ্ম ডেরায় সামিল হতে চলেছেন? এই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য এক্কেবারে চাঁছাছোলা ভাষায় নাম করে জানিয়ে দেন, “কোনও ঋতব্রত, কোনও পরমব্রত... এদের কারও জন্যই বিজেপির দরজা খোলা নেই। যাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে, মার খেয়ে সক্রিয় কর্মী হিসেবে মাঠে লড়াই করে বিজেপিকে আজ বাংলার এই সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে এসেছেন, তাঁদের ভরসাতেই দল আগামী দিনে এগোবে। বিজেপির বাইরে থেকে কোনও ‘ইমপোর্ট’ বা আমদানি করার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই।”শমীকের এই বিস্ফোরক ও কড়া বার্তা এক লহমায় স্পষ্ট করে দিল যে, দল ভারী করার চক্করে এবার আর ‘সব পেয়েছির আসর’ বসাতে রাজি নয় বিজেপি নেতৃত্ব। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনই যে নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, তা এই কঠোর অবস্থান থেকেই প্রমাণিত। অতীতে নির্বাচনের আগে দেদার দলবদলের যে নীতি নিয়ে দলের আদি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কোমর বাঁধছে মুরলীধর সেন লেনের কর্তারা। শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া ‘নো-এন্ট্রি’র বার্তা যে টলিপাড়ার একাধিক ডিগবাজি খেতে চাওয়া চেনা মুখ এবং শাসকদলের কোণঠাসা দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বুকে বড়সড় কাঁপন ধরিয়ে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার