Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

হাওড়ায় জাল কাগজ নিয়ে লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশি দম্পতি গ্রেপ্তার

হাওড়ায় জাল কাগজ নিয়ে লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশি দম্পতি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

হাওড়া: নবান্নের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে জেলায় জেলায় বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কড়া নির্দেশিকা জারি হতেই বঙ্গে শুরু হয়ে গেল চরম ধড়পাকড়। এবার খাস হাওড়া জেলা থেকে গ্রেফতার করা হল এক বাংলাদেশি দম্পতিকে। জাল ভারতীয় নথিপত্র তৈরি করে উনসানি এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে থাকার অপরাধে রবিবার সাতসকালেই তাঁদের হাতেনাতে পাকড়াও করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম রমজান গাজি ও আরিফা বেগম, যাঁদের বয়স ৩৫ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। বঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর যখন অনুপ্রবেশ রুখতে প্রশাসন এক্কেবারে যুদ্ধং দেহি মেজাজে, ঠিক তখনই হাওড়ার এই ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার জগাছা থানার উনসানি মাঝেরপাড়া এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে এক দম্পতি বসবাস করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপরই জগাছা থানার পুলিশ ওই বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে এবং ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দেখতে চায়। কিন্তু তাঁদের দেওয়া আধার বা অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই পুলিশের সামনে চলে আসে এক বিস্ফোরক তথ্য। জানা যায়, ধৃতদের আসল বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায়। জাল নথির সাহায্যে সীমান্ত পার হয়ে তাঁরা ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে দিব্যি সংসার পেতে বসেছিলেন। রবিবারই ধৃতদের হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হচ্ছে।


পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ বরাবরই একটা বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেও ‘ঘুসপেটিয়া’ বা বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বার বার সুর চড়িয়েছিল বিজেপি। আর ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্ছিদ্র করতে এবং অনুপ্রবেশ মুক্ত বাংলা গড়তে এক লহমায় অ্যাকশন মোডে চলে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসন ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ বা ‘৩ডি’ (3D) নীতি গ্রহণ করেছে। ভারত সরকারের আইন ও ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনে বাংলার প্রতি জেলায় যে বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির গড়ার কাজ শুরু হয়েছে, হাওড়ার এই ঘটনা তারই প্রয়োজনীয়তা যেন আরও একবার প্রমাণ করে দিল।


নবান্নের নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, বাংলাদেশি কিংবা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধরা পড়া ব্যক্তিদের নথিপত্র খতিয়ে দেখার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা যাবে। যদি প্রমাণ হয় তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তবে তাঁদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি বিএসএফ-এর মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ডিপোর্ট করা হবে। জগাছা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত রমজান ও আরিফাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হবে। কীভাবে তারা এই জাল ভারতীয় নথি জোগাড় করলেন এবং হাওড়ার বুকে তাঁদের এই অনুপ্রবেশের নেপথ্যে কোনও আন্তর্জাতিক চক্র বা স্থানীয় রাজনৈতিক দালালের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোর কদমে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বিষয় : HOWRAH WestBengalPolitics suvendu adhikari INFILTRATION HOLDINGCENTER 3DACTION

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


হাওড়ায় জাল কাগজ নিয়ে লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশি দম্পতি গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image
হাওড়া: নবান্নের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে জেলায় জেলায় বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির কড়া নির্দেশিকা জারি হতেই বঙ্গে শুরু হয়ে গেল চরম ধড়পাকড়। এবার খাস হাওড়া জেলা থেকে গ্রেফতার করা হল এক বাংলাদেশি দম্পতিকে। জাল ভারতীয় নথিপত্র তৈরি করে উনসানি এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে থাকার অপরাধে রবিবার সাতসকালেই তাঁদের হাতেনাতে পাকড়াও করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম রমজান গাজি ও আরিফা বেগম, যাঁদের বয়স ৩৫ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। বঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর যখন অনুপ্রবেশ রুখতে প্রশাসন এক্কেবারে যুদ্ধং দেহি মেজাজে, ঠিক তখনই হাওড়ার এই ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার জগাছা থানার উনসানি মাঝেরপাড়া এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে এক দম্পতি বসবাস করছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপরই জগাছা থানার পুলিশ ওই বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে এবং ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দেখতে চায়। কিন্তু তাঁদের দেওয়া আধার বা অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই পুলিশের সামনে চলে আসে এক বিস্ফোরক তথ্য। জানা যায়, ধৃতদের আসল বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায়। জাল নথির সাহায্যে সীমান্ত পার হয়ে তাঁরা ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে দিব্যি সংসার পেতে বসেছিলেন। রবিবারই ধৃতদের হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হচ্ছে।পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ বরাবরই একটা বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেও ‘ঘুসপেটিয়া’ বা বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বার বার সুর চড়িয়েছিল বিজেপি। আর ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্ছিদ্র করতে এবং অনুপ্রবেশ মুক্ত বাংলা গড়তে এক লহমায় অ্যাকশন মোডে চলে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসন ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ বা ‘৩ডি’ (3D) নীতি গ্রহণ করেছে। ভারত সরকারের আইন ও ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনে বাংলার প্রতি জেলায় যে বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবির গড়ার কাজ শুরু হয়েছে, হাওড়ার এই ঘটনা তারই প্রয়োজনীয়তা যেন আরও একবার প্রমাণ করে দিল।নবান্নের নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, বাংলাদেশি কিংবা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধরা পড়া ব্যক্তিদের নথিপত্র খতিয়ে দেখার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা যাবে। যদি প্রমাণ হয় তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তবে তাঁদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি বিএসএফ-এর মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ডিপোর্ট করা হবে। জগাছা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত রমজান ও আরিফাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হবে। কীভাবে তারা এই জাল ভারতীয় নথি জোগাড় করলেন এবং হাওড়ার বুকে তাঁদের এই অনুপ্রবেশের নেপথ্যে কোনও আন্তর্জাতিক চক্র বা স্থানীয় রাজনৈতিক দালালের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোর কদমে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার