কলকাতা: বাংলায় ক্ষমতার হাতবদল হতেই বদলে গেল কালীঘাটের অতি-পরিচিত ছবি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির আশপাশ থেকে সরতে শুরু করে পুলিশের অতিরিক্ত প্রহরা। তবে কি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় বড়সড় কোপ পড়ল? এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে খোদ রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়ে দিলেন, সরকার বদলালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা অটুট থাকবে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট ও হরিশ মুখার্জি রোডে এক অন্য পরিবেশ দেখা যায়। বহু বছর ধরে ১৮৮এ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মুখে থাকা সেই বিখ্যাত ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যে রাস্তা দিয়ে এতদিন সাধারণ মানুষের প্রবেশে হাজারো বিধিনিষেধ ছিল, তা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী কিয়স্কগুলিও এখন ফাঁকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘ সময় পর এলাকাটি যেন ভিভিআইপি বলয় থেকে মুক্ত হয়ে সাধারণ ছন্দে ফিরল।
যদিও ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত স্পষ্ট করেছেন, এই পরিবর্তন কেবল অতিরিক্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং একজন সাংসদ হিসাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, তা পুরোপুরি বহাল রয়েছে। পুলিশ প্রধানের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য যে জেড প্লাস ক্যাটাগরির সুরক্ষা ছিল, তা ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে। শুধুমাত্র অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীকে সরিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অন্য কাজে লাগানো হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রোটোকল মেনে মমতা ও অভিষেকের ব্যক্তিগত সুরক্ষায় কোনও ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। কেবল ক্যামাক স্ট্রিট বা কালীঘাটের বাড়ির সামনে থাকা বিশেষ পুলিশি ক্যাম্প বা বাড়তি ব্যারিকেডগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর এই পুনর্বিন্যাসকে রুটিন প্রক্রিয়া হিসাবেই দেখছে প্রশাসন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকার বদলের প্রথম প্রতিফলন হিসেবে কালীঘাটের এই নিরাপত্তা শিথিল হওয়ার ঘটনাটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন