কলকাতা: বাংলায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হিংসার খবরে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। বুধবার নজিরবিহীনভাবে রাজ্যের জেলায় জেলায় সাংবাদিক সম্মেলন করে কড়া বার্তা দিলেন জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপাররা (SP)। সাফ জানিয়ে দেওয়া হল — পার্টি অফিস দখল বা বাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটলে এবার আর রেয়াত নয়, সরাসরি কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পশ্চিম বর্ধমান থেকে বাঁকুড়া, বীরভূম থেকে মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মেদিনীপুর — সর্বত্রই বুধবার জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা সাংবাদিক বৈঠক করেন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের পাশাপাশি সিআরপিএফ-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত বার্তা একটাই, “আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। শান্তি বজায় রাখুন। হিংসা ছড়ালে শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে।”
ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে পশ্চিম বর্ধমানে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার প্রণব কুমার জানিয়েছেন, জেলায় ইতিমধ্যেই ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অশান্তি রুখতে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন। একইভাবে দক্ষিণ দিনাজপুরে জেলাশাসক বালা সুবহ্মণ্যম টি এবং পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তল স্পষ্ট জানান, ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলেই পুলিশ কঠোর হবে।
আগামী ৯ মে রাজ্যে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। তার আগে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার রাশ শক্ত হাতে ধরে রাখতে চাইছে প্রশাসন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জেলা ইনচার্জরাও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে টহল দিচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জে যেখানে বাড়ি বা দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠছে, সেখানে পুলিশকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই সক্রিয়তার পর রাজ্যের উত্তপ্ত জেলাগুলি শান্ত হয় কিনা, এখন সেটাই দেখার। তবে, জেলাশাসকদের এই কড়া হুঙ্কার যে উপদ্রবকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা, তা বলাই বাহুল্য।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন