ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে বর্ষীয়ান রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ঠিক তখনই এক বিপরীতধর্মী ও বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
একটি সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি মনেপ্রাণে চান বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যেন খারাপ থাকে। তাঁর কথায়, “আমি রোজ সকালে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উন্নতি না হয়। মহম্মদ ইউনুস সে দেশের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন সম্পর্ক যে তলানিতে ছিল, তেমন থাকলেই ভালো।” অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য দুই প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অগ্রগতিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই অনমনীয় অবস্থানের মূল কারণ হলো অনুপ্রবেশ সমস্যা। তাঁর যুক্তি, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকার সময় অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পায় এবং অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া থমকে যায়। কিন্তু সম্পর্ক খারাপ থাকলে বিএসএফ অনেক বেশি সতর্ক থাকে। তিনি ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেছেন যে, আইনি জটিলতা এড়াতে রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়। তাঁর দাবি, বিএসএফ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করার পর কিছু দিন হেফাজতে রেখে সুযোগমতো ওপারে পাঠিয়ে দেয়। উল্লেখ্য যে, ভারত ও বাংলাদেশের আদালতের নির্দেশে অতীতে বেশ কিছু ভারতীয় নাগরিককে ভুলবশত পুশব্যাক করার ঘটনা ঘটলেও, হিমন্ত তাঁর অবস্থানে অনড়।
যেখানে মোদী সরকার প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ার লক্ষ্যে দীনেশ ত্রিবেদীর মতো রাজনীতিককে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করছে, সেখানে হিমন্তের এই ‘পুশব্যাক’ নীতি ও সম্পর্কের অবনতির আর্জি কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশনীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন