নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন ঝোড়ো হাওয়ার নাম বলেন্দ্র শাহ। জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলন থেকে উত্থান হওয়া এই তরুণ প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মধ্যেই প্রবল জনরোষের মুখে পড়েছেন। গত মার্চে সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই বলেন্দ্র শাহের মন্ত্রিসভা ১০০ দফা এক সংস্কারমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করে। যার মধ্যে সবথেকে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ছিল— নেপালের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সরকারি দপ্তরে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা কোনো ছাত্র সংগঠন বা ইউনিয়ন থাকতে পারবে না।
সরকারের যুক্তি, শিক্ষার মান বজায় রাখতে ক্যাম্পাসকে রাজনীতিমুক্ত রাখা জরুরি। তবে যে পড়ুয়াদের কাঁধে ভর করে পুরনো সরকারের পতন ঘটিয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন, এখন সেই পড়ুয়াদের একাংশই এই সিদ্ধান্তকে গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে দাবি করে কাঠমান্ডুর প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘সিংহ দরবার’-এর সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছেন।
বিক্ষোভের আঁচ কেবল ছাত্র রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন শুল্কনীতি নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বলেন্দ্রর সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে, ভারত থেকে ১০০ টাকার বেশি মূল্যের পণ্য আনলে তার ওপর ৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য তাঁদের ভারতের ওপর নির্ভর করতে হয়; এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের ওপর বিশাল আর্থিক বোঝা চেপেছে।
এছাড়াও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুংয়ের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিতেও সোচ্চার হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। নেপালের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন্দ্র শাহ যখন দেশকে নতুন দিশা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তখন তাঁর এই ‘বিপ্লবী’ সিদ্ধান্তগুলোই এখন তাঁর সরকারের অস্তিত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন