হৃদ্রোগের ঝুঁকি বুঝতে আর শুধু কোলেস্টেরল পরীক্ষার ওপর ভরসা করার প্রয়োজন নেই। আমেরিকার নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিনের গবেষকরা দাবি করেছেন, রক্তে ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি’ (Apolipoprotein B) নামক এক বিশেষ প্রোটিনের মাত্রা পরীক্ষা করেই অনেক আগেভাগে বলে দেওয়া সম্ভব যে কোনো ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শুধু লিপিড প্রোফাইল বা খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা দেখে হার্টের স্বাস্থ্যের আসল চিত্র সব সময় ধরা পড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে যায়। এই নতুন পরীক্ষাটি সেই অনিশ্চয়তা দূর করতে সক্ষম।
গবেষকদের মতে, ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি’ হলো এমন এক প্রোটিন যা কোলেস্টেরলবাহী ক্ষতিকর কণাগুলোর ভেতরে থাকে। এই কণাগুলোই ধমনীতে চর্বি বা প্লাক জমিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষায় রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ জানা গেলেও, সেই কোলেস্টেরল বহনকারী কণাগুলোর সংখ্যা বা গতিপ্রকৃতি বোঝা যায় না। কিন্তু নতুন এই পদ্ধতিতে রক্তে ওই ক্ষতিকর কণাগুলোর সংখ্যা সরাসরি মাপা সম্ভব। ফলে দু’জন মানুষের কোলেস্টেরল লেভেল সমান হলেও, যার রক্তে ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি’ প্রোটিনের মাত্রা বেশি, তাঁর ধমনীতে চর্বি জমার আশঙ্কা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক গুণ বেশি থাকে।
প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা এই তথ্যে নিশ্চিত হয়েছেন। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে কিংবা যাঁদের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে নেই, তাঁদের জন্য এই পরীক্ষাটি জীবনদায়ী হতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার তালিকায় এই নতুন টেস্টটি যুক্ত হলে আচমকা হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের হাত থেকে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে চিকিৎসা মহল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন