Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সাবধান! স্থূলতার কবলে ৩৫ কোটি ভারতীয়, দেশে মেদবাহুল্যের ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা চিকিৎসকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সাবধান! স্থূলতার কবলে ৩৫ কোটি ভারতীয়, দেশে মেদবাহুল্যের ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা চিকিৎসকদের
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: ভারত এক নজিরবিহীন স্বাস্থ্য সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ বর্তমানে ‘অ্যাবডোমিনাল ওবেসিটি’ বা উদর সম্বন্ধীয় স্থূলত্বের শিকার, যা কার্যত জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক ‘জরুরি অবস্থা’র সমান। সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত আড়াই দিনের আন্তর্জাতিক ওবেসিটি-মেটাবলিক কনফারেন্স ‘এমোকন ২০২৬’-এ উপস্থিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরেছেন। 


অ্যাসোসিয়েশন অব মেটাবলিক অ্যান্ড ওবেসিটি ক্লিনিশিয়ানস অ্যান্ড এন্ডোক্রিনোলজিস্টস আয়োজিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিজি হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ডাঃ শুভঙ্কর চৌধুরি। তিনি সতর্ক করে জানান, স্থূলতার সঙ্গে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার এমনকি ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয়দের শারীরিক গঠন অনুযায়ী বিএমআই (BMI) ২৫-এর উপরে গেলেই বিপদ সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।


চিকিৎসকদের মতে, কেবল শরীরের মোট ওজন নয়, বরং পেটের গভীরে থাকা ‘ভিসারাল ফ্যাট’ পরিমাপ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সহজ হিসেবে, পুরুষদের ক্ষেত্রে কোমরের মাপ ৯০ সেমি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৮০ সেমি-র বেশি হওয়া মানেই একাধিক মরণঘাতী অসুখের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়া। সম্মেলনের আয়োজক কমিটির সদস্য ডাঃ সুপ্রতীক ভট্টাচার্য উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, বর্তমানে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও স্থূলতা মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ‘স্কিন টাইম’ বা মোবাইল-ল্যাপটপে মুখ গুঁজে থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবকে দায়ী করেছেন তিনি। পাশাপাশি মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পরবর্তী সময়ে স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।


এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসকরা জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। ওজন কমাতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভাতের পরিমাণ কমিয়ে মাছ, ডিম, ডাল ও পনিরের মতো প্রোটিন এবং ফাইবারযুক্ত শাকসবজি বেশি করে রাখার কথা বলা হয়েছে। 

চিকিৎসকরা আরও জানান, যদি ডায়েট ও শরীরচর্চাতেও কাজ না হয়, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে আধুনিক ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই সব ওষুধ সেবন করা যাবে না। একই সঙ্গে ওষুধ খেলেও খাদ্যে সংযম ও নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক। আধুনিক ভারতের এই ‘ওবেসিটি’ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় বিপদের মুখে পড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

বিষয় : obesityindia lifestykedisease heartheath diabetes medicanews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সাবধান! স্থূলতার কবলে ৩৫ কোটি ভারতীয়, দেশে মেদবাহুল্যের ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা চিকিৎসকদের

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ভারত এক নজিরবিহীন স্বাস্থ্য সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ বর্তমানে ‘অ্যাবডোমিনাল ওবেসিটি’ বা উদর সম্বন্ধীয় স্থূলত্বের শিকার, যা কার্যত জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক ‘জরুরি অবস্থা’র সমান। সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত আড়াই দিনের আন্তর্জাতিক ওবেসিটি-মেটাবলিক কনফারেন্স ‘এমোকন ২০২৬’-এ উপস্থিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরেছেন। অ্যাসোসিয়েশন অব মেটাবলিক অ্যান্ড ওবেসিটি ক্লিনিশিয়ানস অ্যান্ড এন্ডোক্রিনোলজিস্টস আয়োজিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিজি হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ডাঃ শুভঙ্কর চৌধুরি। তিনি সতর্ক করে জানান, স্থূলতার সঙ্গে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার এমনকি ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয়দের শারীরিক গঠন অনুযায়ী বিএমআই (BMI) ২৫-এর উপরে গেলেই বিপদ সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।চিকিৎসকদের মতে, কেবল শরীরের মোট ওজন নয়, বরং পেটের গভীরে থাকা ‘ভিসারাল ফ্যাট’ পরিমাপ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সহজ হিসেবে, পুরুষদের ক্ষেত্রে কোমরের মাপ ৯০ সেমি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৮০ সেমি-র বেশি হওয়া মানেই একাধিক মরণঘাতী অসুখের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়া। সম্মেলনের আয়োজক কমিটির সদস্য ডাঃ সুপ্রতীক ভট্টাচার্য উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, বর্তমানে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও স্থূলতা মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ‘স্কিন টাইম’ বা মোবাইল-ল্যাপটপে মুখ গুঁজে থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবকে দায়ী করেছেন তিনি। পাশাপাশি মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পরবর্তী সময়ে স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসকরা জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। ওজন কমাতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভাতের পরিমাণ কমিয়ে মাছ, ডিম, ডাল ও পনিরের মতো প্রোটিন এবং ফাইবারযুক্ত শাকসবজি বেশি করে রাখার কথা বলা হয়েছে। চিকিৎসকরা আরও জানান, যদি ডায়েট ও শরীরচর্চাতেও কাজ না হয়, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে আধুনিক ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই সব ওষুধ সেবন করা যাবে না। একই সঙ্গে ওষুধ খেলেও খাদ্যে সংযম ও নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক। আধুনিক ভারতের এই ‘ওবেসিটি’ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় বিপদের মুখে পড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার