নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার আকাশে অবশেষে কি যুদ্ধের কালো মেঘ কাটতে শুরু করেছে? দীর্ঘ প্রায় ৪০ দিনের বিধ্বংসী সংঘাতের পর বুধবার ভোররাতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান এবং আমেরিকা। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলল ভারত! নয়াদিল্লির নজর এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’র দিকে।
বুধবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি জারি করেছে। সাউথ ব্লকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত বরাবরই যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক আলোচনায় বিশ্বাসী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমরা এই সংঘর্ষবিরতিকে স্বাগত জানাই। আশা করি, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফিরবে। যুদ্ধ কোনও সমাধান নয়। আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তি সম্ভব।"
প্রসঙ্গত, ইরান ও আমেরিকার এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছিল ভারতের অর্থনীতির উপর। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ভারতের তেল ও গ্যাস আমদানিতে বড়সড় টান পড়েছিল। দেশজুড়ে দেখা দিয়েছিল তীব্র জ্বালানি সঙ্কট। প্রায় ২০টি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ ওই এলাকায় আটকে পড়েছিল। ভারত আশা প্রকাশ করেছে, এই ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং বিশ্ববাণিজ্য আবার তার পুরোনো গতি ফিরে পাবে।
তবে, যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। ইরানের ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে সেখানে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাগরিকের উদ্দেশে এক বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নাগরিকদের বলা হয়েছে, "বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আপনারা যত দ্রুত সম্ভব ইরান ত্যাগ করুন।"
আপাতত দু-সপ্তাহের জন্য কামানের গর্জন থেমেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ১৪ দিন পর কি আবারও যুদ্ধের আগুনে পুড়বে পশ্চিম এশিয়া? ভারতের আটকে পড়া জাহাজগুলি এই সময়ের মধ্যে দেশে ফিরতে পারবে কিনা, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন