কলকাতা: অবসান হল একটি দীর্ঘ ও বর্ণময় রাজনৈতিক অধ্যায়ের। রবিবার গভীর রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক তথা কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল রায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং শেষ কয়েকদিন কোমায় ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক মহলে।
মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর পেয়েই সমাজমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, "ওঁর সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন।"
মুখ্যমন্ত্রী আরও স্মরণ করেন, ১৯৯৭ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মুকুল রায় ছিলেন দলের অন্যতম স্তম্ভ। মাঝে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তিনি ‘ভিন্ন পথে’ (বিজেপি) গেলেও, ২০২১ সালে ফের ‘পুরনো ঘরে’ ফিরে আসেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল।" মুকুলের শোকসন্তপ্ত পুত্র শুভ্রাংশু রায়কে সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, "মন শক্ত কর, আমরা তোমার পাশে আছি।"
তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রয়াত বিধায়কের দেহ আজ বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মুকুল রায়ের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের দিন অভিষেকের হাত থেকেই উত্তরীয় গ্রহণ করেছিলেন তিনি।মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। বিজেপি পরিষদীয় দলের পক্ষে বিধানসভায় শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকবেন বিধায়ক অশোক দিন্দ, নরহরি মাহাত এবং পবন সিং।
এক নজরে মুকুল রায়ের রাজনৈতিক পথচলা
তৃণমূলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক: ১৯৯৭ সালে তৃণমূল গঠনের সময় প্রথম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি।
মমতার প্রধান সেনাপতি: একটা সময় তৃণমূলে মমতার পরেই ছিল তাঁর স্থান। রেলমন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব সামলেছেন।
দলবদল ও বিজেপি যাত্রা: ২০১৭ সালে সারদাকাণ্ড পরবর্তী সময়ে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ১৮টি আসন জয়ে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
ঘরে ফেরা: ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর ফের তৃণমূলে ফেরেন।
স্ত্রী কৃষ্ণা রায়ের প্রয়াণের পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন মুকুল রায়। অসুস্থতার কারণে তাঁর কথাবার্তায় অসংলগ্নতা তৈরি হয়। জীবনের শেষ কয়েক মাস কাঁচরাপাড়ার বাড়িতেই নিভৃতে কাটিয়েছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে বাংলার সাংগঠনিক রাজনীতির একটি বিশেষ ঘরানার সমাপ্তি ঘটল।
বিষয় : Kolkata WESTBENGAL TMC Death mukul roy rip

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন