বোলপুর: ছুটির সকালে শান্তিনিকেতনে তীব্র চাঞ্চল্য। বোলপুরের প্রান্তিক এলাকার একটি হোটেল থেকে উদ্ধার হলো বস্তাভর্তি প্রচুর তাজা বোমা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার ভোরে পুলিশ ওই হোটেলে হানা দিলে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। হোটেলের ভেতর থেকেই উদ্ধার হয় প্রায় ৫০টি তাজা বোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম। ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রান্তিক সংলগ্ন ওই হোটেলটিতে বেশ কিছুদিন ধরেই সন্দেহজনক কাজকর্ম চলছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হোটেলের অন্দরেই বসে বোমা বাঁধার কাজ চলছিল। ঘটনার খবর জানাজানি হতেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) রিকি আগরওয়াল। পুলিশ, বম্ব স্কোয়াড এবং দমকল কর্মীরা মিলে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং দ্রুত বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। যে হোটেলে বোমা উদ্ধার হয়েছে, সেটি বোলপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। জেলা বিজেপির অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পুরপ্রধান সংগীতা দাসের স্বামী বাবু দাসের তত্ত্বাবধানেই চলত এই হোটেলটি। বাবু দাস আবার রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বিজেপির দাবি, ভোটের আগে সন্ত্রাস ছড়াতেই শাসকদলের ছত্রছায়ায় হোটেলের আড়ালে এই নাশকতার প্রস্তুতি চলছিল। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
শান্তিনিকেতনের মতো একটি বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রে হোটেলের ভেতর বোমা তৈরির ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা বড়সড় প্রশ্নের মুখে। নাশকতার জন্যই কি এই বিপুল পরিমাণ বোমা মজুত করা হয়েছিল, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও সমাজবিরোধী নেটওয়ার্ক কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এসডিপিও রিকি আগরওয়াল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল পান্ডাদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন