আমেদাবাদ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের মধ্যে সোমবার আমেদাবাদে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। জার্মানির চ্যান্সেলর হিসাবে ফ্রিডরিখ মার্জের এটিই প্রথম ভারত সফর। যা দুই দেশের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকের মূল বিষয়সমূহ:
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা: ভারত ও জার্মানির মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সাবমেরিন তৈরি এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের ক্ষেত্রে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: জার্মান সংস্থাগুলি ভারতে বিশেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অটোমোবাইল সেক্টরে আরও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। 'মেক ইন ইন্ডিয়া' প্রকল্পের আওতায় জার্মান প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও দুই রাষ্ট্রনেতা সম্মত হয়েছেন।
দক্ষ শ্রমিক বিনিময়: জার্মানির শ্রমবাজারে ভারতের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা মেটাতে দুই দেশের মধ্যে বিশেষ ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি’ চুক্তি আরও শক্তিশালী করার কথা জানানো হয়েছে।
আমেদাবাদে উষ্ণ অভ্যর্থনা: প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর নিজস্ব শহর আমেদাবাদে চ্যান্সেলর মার্জকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দুই নেতা সবরমতী আশ্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি গুজরাটের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও সাক্ষী হন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর? ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানির সঙ্গে ভারতের এই ঘনিষ্ঠতা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। চ্যান্সেলর মার্জ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত কেবল জার্মানির বাণিজ্যিক অংশীদার নয়। বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে সেদেশের এক নির্ভরযোগ্য বন্ধু।
এদিন দুই দেশ বেশ কিছু মউ স্বাক্ষর করেছে। যা আগামী দিনে ভারত ও জার্মানির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন