কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নদিয়া-সহ রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও সেই পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে প্রশ্ন উঠেছে, কেন ইসকনকেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হল? বৃহস্পতিবার কলকাতার অ্যালবার্ট রোডের ইসকন মন্দিরের রথযাত্রার অনুষ্ঠানে সেই প্রশ্নেরই জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ইসকন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং মানুষের সেবায় নিয়োজিত অন্যান্য সংগঠনকে সঙ্গে নিয়েই বাংলার নবনির্মাণের পথে এগোতে চাই। সমাজের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” শুভেন্দুর দাবি, মিড ডে মিল প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র খাবার দেওয়া নয়, বরং শিশুদের পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করা। তাঁর কথায়, “আমাদের স্কুলে যাঁরা মিড ডে মিল খায়, তারা মূলত নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অপুষ্টি দূর করতে ভালো এবং পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।” এ দিন পূর্বতন সরকারের আমলে মিড ডে মিল প্রকল্পে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়ম করা পাপের সমান। গত কয়েক বছরে মিড ডে মিল নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আগামী দিনে ইসকন এই দায়িত্ব পালন করে শিশুদের কাছে উন্নতমানের খাবার পৌঁছে দেবে।”
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুন বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, কলকাতায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ইসকনের মাধ্যমে মিড ডে মিল পরিষেবা শুরু হবে। তখনই তিনি বলেছিলেন, “ইসকন খাওয়াবে। ভালো খাবার পাবেন, শুদ্ধ খাবার পাবেন। চিন্তার কোনও কারণ নেই।” সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে অবশ্য বিতর্ক থামেনি। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টেও জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। তবে বিতর্কের মাঝেও নিজের অবস্থানে অনড় মুখ্যমন্ত্রী।
বিষয় : Suvendu Adhikari Mid-Day Meal

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন