নয়াদিল্লি: বুধবার গভীর রাতে দেশের ক্ষমতা অলিন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব নাটকীয় ঘটনা, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭ লোককল্যাণ মার্গের বাসভবন থেকে একে একে যখন বেরিয়ে আসছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীন এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ, তখন ঘড়ির কাঁটা অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সবচেয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই অতি গোপনীয় উচ্চস্তরীয় বৈঠককে কেন্দ্র করে দেশীয় রাজনীতিতে জল্পনার পারদ তুঙ্গে চড়েছে। সরকারিভাবে এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদী সরকার খুব শীঘ্রই বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চলেছে।
আসন্ন ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের হাই-ভোল্টেজ বাদল অধিবেশন। আর তার ঠিক আগেই মোদী মন্ত্রিসভায় এবং বিজেপির সংগঠনে একযোগে একটি বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভার রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
দীঘার রথযাত্রায় ভক্তির জোয়ার
অন্তত ৭ থেকে ৮ জন নতুন সাংসদ এবার মোদীর ক্যাবিনেটে জায়গা পেতে পারেন, যার উল্টো পিঠে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ছাঁটাইয়ের খাঁড়া ঝুলছে একাধিক বর্তমান মন্ত্রীর ওপর। এই তালিকায় মোদীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ও শীর্ষস্তরের কিছু বিজেপি নেতার নামও ভাসছে। অন্যদিকে, নীতীন নবীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৬-৭ মাস কেটে গেলেও এখনও তাঁর নিজস্ব নতুন টিম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দলের সাংগঠনিক রদবদল এবং মন্ত্রিসভার খোলনলচে বদলানোর এই সমীকরণ মেলাতেই গভীর রাতের এই ম্যারাথন বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই রদবদলের জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি ঘোরাফেরা করছে, তিনি হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। NEET কেলেঙ্কারি সহ একাধিক ইস্যুতে তাঁর ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের টানা ১৯ দিনের অনশন মোদী সরকারকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) পছন্দের এবং মোদী-শাহের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কি শেষ পর্যন্ত চাপ সামলাতে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হবে, নাকি তাঁকে দলের সংগঠনে কোনো বড় পদ দিয়ে অন্য কোথাও পুনর্বাসন দেওয়া হবে, তা নিয়ে এই গোপন বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে খবর। এর পাশাপাশি, আসন্ন বাদল অধিবেশনে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘আসন পুনর্বিন্যাস সংশোধনী বিল’ পেশ করার ব্লু-প্রিন্ট নিয়েও কথা হয়েছে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে। এই বিল পাশ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড়ে বিরোধী শিবিরের একাধিক সাংসদকে সরাসরি পদ্ম শিবিরে যোগ দেওয়ানোর মতো মাস্টারস্ট্রোকও গভীর রাতের এই গোপন বৈঠকের মূল এজেন্ডা হয়ে থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন