Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘তোর মাকে খুন করব!’ ছেলেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে স্ত্রীকে শেষ করার পর নিজেরও যা হলো...

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬
‘তোর মাকে খুন করব!’ ছেলেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে স্ত্রীকে শেষ করার পর নিজেরও যা হলো...
ছবি--প্রতীকী

জলপাইগুড়ি: ‘তোর মাকে খুন করব’— মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ভেসে আসা বাবার এই একটি মাত্র ভয়েস মেসেজ যে মুহূর্তের মধ্যে বাস্তব হয়ে একটা আস্ত পরিবারকে ধ্বংস করে দেবে, তা ভাবতেও পারেনি সন্তান। জলপাইগুড়ির বানারহাট এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা ঘটনায় ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। বুধবার মরাঘাট জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক গৃহবধূর রক্তাক্ত দেহ। আর তার ঠিক পরদিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে সেই জঙ্গল থেকেই উদ্ধার হলো অভিযুক্ত স্বামীর নিথর দেহ। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী ও স্ত্রীর এই রহস্যজনক ও মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা এলাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করে ইতিমধ্যেই ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম চুমকি রায় (৫০)। তিনি পূর্ব দুরামারি শালবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। বুধবার সকালে কোনো একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী বিমল রায়ের সঙ্গে চুমকি দেবীর তুমুল ঝগড়া বাধে। বচসা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রাগের মাথায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান চুমকি রায়। তার কিছুক্ষণ পরেই বিমলবাবুও ঘর ছাড়েন। কিন্তু বাড়ি থেকে বেরোনোর পরেই বিমল তাঁর ছেলের মোবাইলে একটি ভয়ঙ্কর ভয়েস বার্তা পাঠান, যেখানে তিনি স্পষ্ট হুমকি দেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীকে খুন করতে চলেছেন। এই বার্তা পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুপুরের দিকে মরাঘাট জঙ্গলের গভীরে চুমকি রায়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। মৃতার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি এবং এক জোড়া জুতো বাজেয়াপ্ত করে বানারহাট থানার পুলিশ।


এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মূল অভিযুক্ত স্বামী বিমল রায় সম্পূর্ণ নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাতেই বৃহস্পতিবার সকালে মরাঘাট জঙ্গলের অন্য একটি অংশ থেকে আরেকটি ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, দেহটি নিখোঁজ স্বামী বিমলেরই। স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করার পর অনুশোচনা বা পুলিশের হাত থেকে বাঁচতেই বিমল নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তির হাত রয়েছে নাকি নিছকই পারিবারিক বিবাদের জেরে এই চরম কাণ্ড, তা নিশ্চিত করতে দেহ দুটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বিষয় : JALPAIGURICRIME familytragedy murdermystery BANARHATHORROR

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


‘তোর মাকে খুন করব!’ ছেলেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে স্ত্রীকে শেষ করার পর নিজেরও যা হলো...

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image
জলপাইগুড়ি: ‘তোর মাকে খুন করব’— মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ভেসে আসা বাবার এই একটি মাত্র ভয়েস মেসেজ যে মুহূর্তের মধ্যে বাস্তব হয়ে একটা আস্ত পরিবারকে ধ্বংস করে দেবে, তা ভাবতেও পারেনি সন্তান। জলপাইগুড়ির বানারহাট এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা ঘটনায় ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। বুধবার মরাঘাট জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক গৃহবধূর রক্তাক্ত দেহ। আর তার ঠিক পরদিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে সেই জঙ্গল থেকেই উদ্ধার হলো অভিযুক্ত স্বামীর নিথর দেহ। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী ও স্ত্রীর এই রহস্যজনক ও মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা এলাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করে ইতিমধ্যেই ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম চুমকি রায় (৫০)। তিনি পূর্ব দুরামারি শালবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। বুধবার সকালে কোনো একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী বিমল রায়ের সঙ্গে চুমকি দেবীর তুমুল ঝগড়া বাধে। বচসা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রাগের মাথায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান চুমকি রায়। তার কিছুক্ষণ পরেই বিমলবাবুও ঘর ছাড়েন। কিন্তু বাড়ি থেকে বেরোনোর পরেই বিমল তাঁর ছেলের মোবাইলে একটি ভয়ঙ্কর ভয়েস বার্তা পাঠান, যেখানে তিনি স্পষ্ট হুমকি দেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীকে খুন করতে চলেছেন। এই বার্তা পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুপুরের দিকে মরাঘাট জঙ্গলের গভীরে চুমকি রায়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। মৃতার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি এবং এক জোড়া জুতো বাজেয়াপ্ত করে বানারহাট থানার পুলিশ।এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মূল অভিযুক্ত স্বামী বিমল রায় সম্পূর্ণ নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাতেই বৃহস্পতিবার সকালে মরাঘাট জঙ্গলের অন্য একটি অংশ থেকে আরেকটি ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, দেহটি নিখোঁজ স্বামী বিমলেরই। স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করার পর অনুশোচনা বা পুলিশের হাত থেকে বাঁচতেই বিমল নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তির হাত রয়েছে নাকি নিছকই পারিবারিক বিবাদের জেরে এই চরম কাণ্ড, তা নিশ্চিত করতে দেহ দুটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার