টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাস্তা, একাধিক জায়গায় যান চলাচল কার্যত ব্যাহত। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর অনুমতি চেয়েছিলেন এক কর্মী। কিন্তু তাঁর আবেদন শুনেই তা খারিজ করে দেন ম্যানেজার। উল্টে তিনি পরামর্শ দেন, “বাস, রিকশা বা উবার ধরে অফিসে চলে আসুন।” সেই হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
ঘটনাটি সামনে আসে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিটে। ওই কর্মীর এক বন্ধু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট পোস্ট করে প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে ওই কর্মীর চাকরি ছেড়ে দেওয়া উচিত কি না। পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার নেটিজেন এ নিয়ে মতামত জানাতে শুরু করেন। ভাইরাল চ্যাটে দেখা যায়, কর্মী তাঁর ম্যানেজারকে লিখেছেন, “নমস্কার স্যার। বৃষ্টি এবং রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে আজ আমি অফিসে আসতে পারব না।” কিন্তু কর্মীর সমস্যার কথা শুনে সহানুভূতি দেখানোর বদলে ম্যানেজারের জবাব ছিল, “পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা উবারে করে অফিসে চলে আসুন। অন্যরাও লোকাল ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহনে করেই অফিসে এসেছে।”
কর্মী যখন বোঝানোর চেষ্টা করেন যে এই পরিস্থিতিতে যাতায়াত করা নিরাপদ নয়, তখনও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন ম্যানেজার। তিনি আরও লেখেন, “রিকশা বা উবার নাও, কিন্তু যে ভাবেই হোক অফিসে চলে এস।” এই কথোপকথন প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। অনেকের মতে, কর্মীদের নিরাপত্তা ও বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব না দিয়ে অফিসে উপস্থিতিকেই প্রাধান্য দেওয়া অত্যন্ত অমানবিক। কেউ মন্তব্য করেছেন, “এমন কোম্পানির নাম প্রকাশ করা উচিত।” আবার কেউ লিখেছেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে সহানুভূতি দেখানো একজন ম্যানেজারের ন্যূনতম দায়িত্ব।”
অনেকেই এই ঘটনাকে কর্পোরেট দুনিয়ার ‘টক্সিক ওয়ার্ক কালচার’-এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। কেউ কেউ ওই কর্মীকে নতুন চাকরি খোঁজার পরামর্শও দিয়েছেন। ভাইরাল এই চ্যাট ফের কর্মক্ষেত্রে মানবিকতা, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন