কলকাতা: আদালতের একের পর এক নির্দেশ এড়িয়েও শেষরক্ষা হলো না! কণ্ঠস্বরের নমুনা না দেওয়ায় অবশেষে কলকাতা হাই কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে তদন্তে সহযোগিতা না করলে এবং কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে তাঁর রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। আর আদালতের এই চরম অনমনীয় মনোভাব দেখেই সুর নরম করতে বাধ্য হলেন অভিষেকের আইনজীবী। আগামী ১৫ জুলাই বেলা ১২টায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে রাজি হয়েছেন সাংসদ। তবে হাজিরা দেওয়ার আগে তৃণমূল নেতার আইনজীবীর আকুল আর্জি—‘সেদিন যেন কেউ তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম না ছোড়ে!’
নির্বাচনী প্রচারের সময় ডিজে সংক্রান্ত একটি আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে সিআইডি। তদন্তের স্বার্থেই তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা চেয়েছিল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু গত বুধবার বিধাননগর আদালতে হাজিরার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও টানা দ্বিতীয়বার হাজিরা এড়ান অভিষেক, যার জেরে সিআইডি আধিকারিকদের দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয়। এই আচরণে ক্ষুব্ধ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য শুক্রবার আদালতে স্পষ্ট বলেন, “কখন কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। তদন্তে সহযোগিতা না করলে আমি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করব।” বিচারপতির এই রুদ্রমূর্তি দেখে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য মেনে নেন যে আইনের ব্যাখ্যা বুঝতে তাঁদের ভুল হয়েছিল এবং তাঁরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলাটি প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
শুনানি চলাকালীন অভিষেকের আইনজীবী যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যে, তাঁর মক্কেল যখন নিজেই স্বীকার করছেন ওই কণ্ঠস্বর তাঁর, তখন নতুন করে নমুনা নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু আদালত এই যুক্তি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। বিচারপতি মনে করিয়ে দেন, সংবিধানের ২২৬ ধারা অনুযায়ী অভিষেককে যে ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ বা রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, তার প্রধান শর্তই ছিল তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা। একই বিষয়ে বারবার মামলা ঠুকে আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার করার জন্যেও অভিষেকের আইনজীবীকে তীব্র কটাক্ষ করে আদালত। এই কণ্ঠস্বরের নমুনা যাতে অন্য কোনও মামলায় ব্যবহার না করা হয়, সেই আর্জি অবশ্য আদালতের কাছে রাখা হলেও বিচারপতি তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
মামলার সমস্ত আইনি লড়াইয়ে কোণঠাসা হয়ে যাওয়ার পর শেষমেশ ডিম ছোড়ার প্রসঙ্গটি সামনে আনেন অভিষেকের আইনজীবী। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতেই যে এই ডিম-আতঙ্ক, তা স্পষ্ট। এই বিষয়ে বিচারপতি ভট্টাচার্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে রাজ্য সরকারকে জানান, রাস্তায় এই ধরনের ডিম ছোড়ার ঘটনা একেবারেই বন্ধ হওয়া উচিত। জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং আগামী ১৫ জুলাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা দেওয়ার সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ডিম ছোড়ার ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন