Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ভিআইপি রোডে ডুবল গাড়ি, থমকে বিমান! রাতভর বৃষ্টিতে বানভাসি কলকাতা ও শহরতলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬
ভিআইপি রোডে ডুবল গাড়ি, থমকে বিমান! রাতভর বৃষ্টিতে বানভাসি কলকাতা ও শহরতলি
নিজস্ব চিত্র

কলকাতা: আষাঢ়ের শেষে এসে অবশেষে স্বমহিমায় বর্ষা, কিন্তু তার জেরে কার্যত নরককঙ্কাল দশা কলকাতা ও শহরতলির! বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিশ্রান্ত বৃষ্টি শুক্রবার সকালেও থামার নাম নেয়নি। কখনও ঝিরঝিরে, আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে তিলোত্তমার বিস্তীর্ণ অংশ। মধ্য কলকাতার ধর্মতলা থেকে শুরু করে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ—বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির দাপটে বিপর্যস্ত জনজীবন। স্ট্র্যান্ড রোডে একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল থমকে থাকে। তবে দক্ষিণ কলকাতার তুলনায় উত্তর কলকাতা এবং শহরতলির দিকে বৃষ্টির দাপট অনেক বেশি, যার জেরে অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।


সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভিআইপি রোডের চিনার পার্ক এলাকায়। সেখানে ৪৫ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলির চাকা সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে গিয়েছে। শুক্রবার সকালে জলমগ্ন ভিআইপি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় একটি চারচাকার গাড়ির অর্ধেকের বেশি অংশ জলের তলায় চলে যায় এবং গাড়িটি বিকল হয়ে পড়ে। পরে ক্রেন এনে গাড়িটিকে উদ্ধার করতে হয়। জল পেরোতে গিয়ে একাধিক মোটরবাইক ও ছোট গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ভিআইপি রোডে মাইলের পর মাইল তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। কৈখালি, দমদম, বরাহনগর, ব্যারাকপুর ও সোদপুরের মতো নিচু এলাকাগুলিও এখন জলের তলায়। এমনকি কলকাতা বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার রাস্তাও জলমগ্ন হয়ে পড়ায় যাত্রীরা চরম সমস্যায় পড়েন এবং দুর্যোগের জেরে সাময়িকভাবে বিমান পরিষেবাও ব্যাহত হয়।


এই চরম জলযন্ত্রণার জেরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের দাবি, সকাল ১১টা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বেলার দিকে বৃষ্টি বাড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। অন্যদিকে, কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগ অবশ্য এখনও অল ইজ ওয়েল তত্ত্বে বিশ্বাসী। পুরসভার এক আধিকারিক জানান, শহরে এখনও কোনও অস্বাভাবিক বৃষ্টি হয়নি। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বুস্টার পাম্প ও ছোট-বড় পাম্পিং স্টেশনগুলি সক্রিয় রাখা হয়েছে। গঙ্গার লকগেটগুলি সময়মতো খোলা ও বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাঁদের আশঙ্কা, এক ঘণ্টার মধ্যে যদি ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়ে যায়, তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

কলকাতায় বৃষ্টির দাপট! টানা বৃষ্টিতে চিনার পার্ক কার্যত জলমগ্ন! হলদিরামের সামনে জলের তলায় গাড়ি, ভোগান্তি চরমে

কলকাতা ও শহরতলির বাসিন্দাদের জন্য এখনই কোনও সুখবর শোনাতে পারেনি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনাতেও লাগাতার বৃষ্টি চলবে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং পূর্ব বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পাহাড়ে ধস নামার আশঙ্কাও বাড়ছে।

বিষয় : roadblock kolkatarain kolkatatraffic monsoon2026 dumdumaairport

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬


ভিআইপি রোডে ডুবল গাড়ি, থমকে বিমান! রাতভর বৃষ্টিতে বানভাসি কলকাতা ও শহরতলি

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image
কলকাতা: আষাঢ়ের শেষে এসে অবশেষে স্বমহিমায় বর্ষা, কিন্তু তার জেরে কার্যত নরককঙ্কাল দশা কলকাতা ও শহরতলির! বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিশ্রান্ত বৃষ্টি শুক্রবার সকালেও থামার নাম নেয়নি। কখনও ঝিরঝিরে, আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে তিলোত্তমার বিস্তীর্ণ অংশ। মধ্য কলকাতার ধর্মতলা থেকে শুরু করে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ—বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির দাপটে বিপর্যস্ত জনজীবন। স্ট্র্যান্ড রোডে একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল থমকে থাকে। তবে দক্ষিণ কলকাতার তুলনায় উত্তর কলকাতা এবং শহরতলির দিকে বৃষ্টির দাপট অনেক বেশি, যার জেরে অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভিআইপি রোডের চিনার পার্ক এলাকায়। সেখানে ৪৫ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলির চাকা সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে গিয়েছে। শুক্রবার সকালে জলমগ্ন ভিআইপি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় একটি চারচাকার গাড়ির অর্ধেকের বেশি অংশ জলের তলায় চলে যায় এবং গাড়িটি বিকল হয়ে পড়ে। পরে ক্রেন এনে গাড়িটিকে উদ্ধার করতে হয়। জল পেরোতে গিয়ে একাধিক মোটরবাইক ও ছোট গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ভিআইপি রোডে মাইলের পর মাইল তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। কৈখালি, দমদম, বরাহনগর, ব্যারাকপুর ও সোদপুরের মতো নিচু এলাকাগুলিও এখন জলের তলায়। এমনকি কলকাতা বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার রাস্তাও জলমগ্ন হয়ে পড়ায় যাত্রীরা চরম সমস্যায় পড়েন এবং দুর্যোগের জেরে সাময়িকভাবে বিমান পরিষেবাও ব্যাহত হয়।এই চরম জলযন্ত্রণার জেরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের দাবি, সকাল ১১টা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বেলার দিকে বৃষ্টি বাড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। অন্যদিকে, কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগ অবশ্য এখনও অল ইজ ওয়েল তত্ত্বে বিশ্বাসী। পুরসভার এক আধিকারিক জানান, শহরে এখনও কোনও অস্বাভাবিক বৃষ্টি হয়নি। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বুস্টার পাম্প ও ছোট-বড় পাম্পিং স্টেশনগুলি সক্রিয় রাখা হয়েছে। গঙ্গার লকগেটগুলি সময়মতো খোলা ও বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাঁদের আশঙ্কা, এক ঘণ্টার মধ্যে যদি ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়ে যায়, তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।কলকাতায় বৃষ্টির দাপট! টানা বৃষ্টিতে চিনার পার্ক কার্যত জলমগ্ন! হলদিরামের সামনে জলের তলায় গাড়ি, ভোগান্তি চরমেকলকাতা ও শহরতলির বাসিন্দাদের জন্য এখনই কোনও সুখবর শোনাতে পারেনি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনাতেও লাগাতার বৃষ্টি চলবে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং পূর্ব বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পাহাড়ে ধস নামার আশঙ্কাও বাড়ছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার