বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। তার পর থেকেই এই নৃশংস ঘটনার একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এবার পুলিশের মুখোমুখি জেরায় বাকি তিন ধৃতের বয়ানে উঠে এল নতুন তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, বরাবরই বিকৃত মানসিকতার ছিল প্রভাস। নির্যাতিত নাবালিকার উপর দীর্ঘদিন ধরেই তার নজর ছিল এবং সেই কারণেই সে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত কবীর মোল্লা, দিবাকর সর্দার ও আনন্দ সর্দার জেরায় দাবি করেছে, পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিল প্রভাসই। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় সে নাবালিকার গতিবিধি সম্পর্কে জানত। ধীরে ধীরে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে আস্থা অর্জন করে এবং পরে সেই সম্পর্ককেই অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। প্রভাসের মৃত্যুর পর তার পরিবার থেকেও বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসে। প্রভাসের স্ত্রী দাবি করেন, সে দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত ছিল এবং সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। তাঁর কথায়, “ও বরাবরই নোংরা মানসিকতার ছিল। তাই এমন কাজ সে করেনি, তা জোর দিয়ে বলতে পারব না।” প্রতিবেশীদের একাংশও দাবি করেছেন, এলাকার বহু মহিলাকে উত্যক্ত করার অভিযোগ ছিল প্রভাসের বিরুদ্ধে।
এদিকে, জেরার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে সামনে এসেছে ‘রাজা’ নামটি। ভিডিওতে প্রভাসকে একাধিকবার ওই নাম উচ্চারণ করতে শোনা গিয়েছে। তবে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ‘রাজা’ সম্ভবত ধৃতদেরই কারও ডাকনাম। তদন্তকে অন্যদিকে ঘোরানোর উদ্দেশ্যেই ওই নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে প্রভাস।
পুলিশের দাবি, নাবালিকাকে ডেকে আনা, নির্যাতন, দেহ লোপাটের পরিকল্পনা এবং ঘটনার পর কীভাবে পুলিশের হাত এড়ানো যায় সবকিছুরই নীলনকশা তৈরি করেছিল প্রভাস। যদিও সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণ সত্য সামনে আনতে বাকি তিন ধৃতকেও খুব শীঘ্রই ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হবে। সেই প্রক্রিয়ায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে পুলিশ।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন