Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

অভিষেকের বাড়িতে মাঝরাতে কেন পুলিশের হানা? ক্ষুব্ধ বিচারপতির কড়া নির্দেশে কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি!

অভিষেকের বাড়িতে মাঝরাতে কেন পুলিশের হানা? ক্ষুব্ধ বিচারপতির কড়া নির্দেশে কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি!
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গভীর রাতে পুলিশের আকস্মিক অভিযান নিয়ে এবার নজিরবিহীনভাবে সরব হলো কলকাতা হাই কোর্ট। তল্লাশির নামে পুলিশের এই ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সাফ জানতে চাইলেন, কোনো রকম সার্চ ওয়ারেন্ট বা তল্লাশি পরোয়ানা ছাড়াই অত রাতে কেন সাংসদের বাড়িতে হানা দিল পুলিশ? 


আদালতেই মিটল বিবাদ, ১,০০০ টাকার বন্ডে জামিন


সোমবার এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য পুলিশকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে ওই রাতের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং অডিও-ভিডিও রেকর্ড অবিলম্বে সংরক্ষণ করে রাখার জন্য পুলিশকে বাধ্য করেছে আদালত, যা নিয়ে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


মামলার বিবরণী থেকে জানা গিয়েছে, গত ১৩ জুন ভোররাতে আচমকাই অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে হানা দেয় শালবনি থানার পুলিশ। সাংসদের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে এই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। আদালতে অভিষেকের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বর্ষীয়ান আইনজীবী কিশোর দত্ত অভিযোগ করেন, যে এফআইআর-এর (FIR) ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল, তাতে অভিষেকের কোনো নামই নেই। সুমিত রায় সেখানে লুকিয়ে আছেন— কেবল এই সন্দেহের বশে ভোর ৩টের সময় বিশাল পুলিশ বাহিনী বাড়ির সামনে গিয়ে হাজির হয়। শুধু তাই নয়, ভোর ৫টা নাগাদ বাড়ির দরজা ভাঙার জন্য খোদ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও (DMC) ডেকে পাঠানো হয়। পুলিশের এই বেপরোয়া আচরণের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল নেতৃত্ব।


শুনানি চলাকালীন এজলাসে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার পুলিশের এই মাঝরাতের অভিযানের পক্ষে সওয়াল করে জানান, অভিযুক্ত সুমিত রায় সেখান থেকে পালিয়ে যেতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছিল। যদিও এই যুক্তিতে একেবারেই সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। তিনি পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহারের দিকটি খতিয়ে দেখতেই এই মামলায় সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেন। তবে এখনই কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ না দিয়ে বিচারপতি ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুলিশের রিপোর্ট জমা পড়ার দু’সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারী পক্ষকেও পাল্টা হলফনামা দিতে হবে। পুলিশের এই মধ্যরাতের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ আদতে আইনসম্মত ছিল নাকি ক্ষমতার ক্ষমতার আস্ফালন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা খোলসা হতে চলেছে।

বিষয় : Abhisheik Banerjee PoliceRaid BengalPolitics CalcuttaHighCourt

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


অভিষেকের বাড়িতে মাঝরাতে কেন পুলিশের হানা? ক্ষুব্ধ বিচারপতির কড়া নির্দেশে কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি!

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গভীর রাতে পুলিশের আকস্মিক অভিযান নিয়ে এবার নজিরবিহীনভাবে সরব হলো কলকাতা হাই কোর্ট। তল্লাশির নামে পুলিশের এই ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সাফ জানতে চাইলেন, কোনো রকম সার্চ ওয়ারেন্ট বা তল্লাশি পরোয়ানা ছাড়াই অত রাতে কেন সাংসদের বাড়িতে হানা দিল পুলিশ? আদালতেই মিটল বিবাদ, ১,০০০ টাকার বন্ডে জামিনসোমবার এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য পুলিশকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে ওই রাতের সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং অডিও-ভিডিও রেকর্ড অবিলম্বে সংরক্ষণ করে রাখার জন্য পুলিশকে বাধ্য করেছে আদালত, যা নিয়ে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।মামলার বিবরণী থেকে জানা গিয়েছে, গত ১৩ জুন ভোররাতে আচমকাই অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে হানা দেয় শালবনি থানার পুলিশ। সাংসদের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে এই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। আদালতে অভিষেকের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বর্ষীয়ান আইনজীবী কিশোর দত্ত অভিযোগ করেন, যে এফআইআর-এর (FIR) ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল, তাতে অভিষেকের কোনো নামই নেই। সুমিত রায় সেখানে লুকিয়ে আছেন— কেবল এই সন্দেহের বশে ভোর ৩টের সময় বিশাল পুলিশ বাহিনী বাড়ির সামনে গিয়ে হাজির হয়। শুধু তাই নয়, ভোর ৫টা নাগাদ বাড়ির দরজা ভাঙার জন্য খোদ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও (DMC) ডেকে পাঠানো হয়। পুলিশের এই বেপরোয়া আচরণের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল নেতৃত্ব।শুনানি চলাকালীন এজলাসে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার পুলিশের এই মাঝরাতের অভিযানের পক্ষে সওয়াল করে জানান, অভিযুক্ত সুমিত রায় সেখান থেকে পালিয়ে যেতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছিল। যদিও এই যুক্তিতে একেবারেই সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। তিনি পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহারের দিকটি খতিয়ে দেখতেই এই মামলায় সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেন। তবে এখনই কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ না দিয়ে বিচারপতি ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুলিশের রিপোর্ট জমা পড়ার দু’সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারী পক্ষকেও পাল্টা হলফনামা দিতে হবে। পুলিশের এই মধ্যরাতের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ আদতে আইনসম্মত ছিল নাকি ক্ষমতার ক্ষমতার আস্ফালন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা খোলসা হতে চলেছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার