Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

কলকাতার মাত্র ১৮৮ কিমি দূরে চিনের বড় পদক্ষেপ! মংলা চুক্তিতে দুশ্চিন্তা বাড়ছে ভারতের

কলকাতার মাত্র ১৮৮ কিমি দূরে চিনের বড় পদক্ষেপ! মংলা চুক্তিতে দুশ্চিন্তা বাড়ছে ভারতের
এ আই নির্মিত ছবি

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আগেই কৌশলগতভাবে বড় পদক্ষেপ নিল চিন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিন সফরে স্বাক্ষরিত হল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বাংলাদেশের মংলা বন্দরে চিনের অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত। এই চুক্তিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে ভারতের।


জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে একটি চিনা সরকারি সংস্থা। বাগেরহাট জেলার এই বন্দর কলকাতা থেকে মাত্র ১৮৮ কিলোমিটার দূরে। সেখানে শিল্পাঞ্চল, গুদাম এবং পণ্য সংরক্ষণের আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করবে বেজিং। কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


যুদ্ধ থামবে, নাকি শুরু হবে নতুন সংঘাত?


 উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পে প্রথমে ভারতের অংশীদার হওয়ার কথা ছিল। ২০১৫ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মংলা বন্দর ও চট্টগ্রামের মিরসরাই অঞ্চলের উন্নয়নে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যৌথ উদ্যোগে খুলনা-মংলা রেল সংযোগও গড়ে ওঠে। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২৫ সালে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ার অভিযোগ তুলে প্রকল্পটি ভারতের হাত থেকে সরিয়ে দেয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।


প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মহলের মতে, উদ্বেগের মূল কারণ শুধু প্রকল্প হারানো নয়, বরং বঙ্গোপসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি। অতীতে বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক প্রকল্পের আড়ালে নজরদারি ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে চিনের বিরুদ্ধে। সেই কারণে মংলা বন্দরে চিনের বিনিয়োগ ভারতের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


 বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলের একাধিক বন্দর প্রকল্পে ইতিমধ্যেই চিনের উপস্থিতি রয়েছে। মংলা বন্দরেও প্রভাব বাড়াতে পারলে বঙ্গোপসাগরে চিনের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। পাশাপাশি তেল আমদানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যপথেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিষয় : India China indiabangladesh chinabangladesh bayofbengal monglaport

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬


কলকাতার মাত্র ১৮৮ কিমি দূরে চিনের বড় পদক্ষেপ! মংলা চুক্তিতে দুশ্চিন্তা বাড়ছে ভারতের

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আগেই কৌশলগতভাবে বড় পদক্ষেপ নিল চিন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিন সফরে স্বাক্ষরিত হল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বাংলাদেশের মংলা বন্দরে চিনের অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত। এই চুক্তিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে ভারতের।জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে একটি চিনা সরকারি সংস্থা। বাগেরহাট জেলার এই বন্দর কলকাতা থেকে মাত্র ১৮৮ কিলোমিটার দূরে। সেখানে শিল্পাঞ্চল, গুদাম এবং পণ্য সংরক্ষণের আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করবে বেজিং। কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।যুদ্ধ থামবে, নাকি শুরু হবে নতুন সংঘাত? উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পে প্রথমে ভারতের অংশীদার হওয়ার কথা ছিল। ২০১৫ সালে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মংলা বন্দর ও চট্টগ্রামের মিরসরাই অঞ্চলের উন্নয়নে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যৌথ উদ্যোগে খুলনা-মংলা রেল সংযোগও গড়ে ওঠে। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২৫ সালে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ার অভিযোগ তুলে প্রকল্পটি ভারতের হাত থেকে সরিয়ে দেয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মহলের মতে, উদ্বেগের মূল কারণ শুধু প্রকল্প হারানো নয়, বরং বঙ্গোপসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি। অতীতে বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক প্রকল্পের আড়ালে নজরদারি ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে চিনের বিরুদ্ধে। সেই কারণে মংলা বন্দরে চিনের বিনিয়োগ ভারতের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলের একাধিক বন্দর প্রকল্পে ইতিমধ্যেই চিনের উপস্থিতি রয়েছে। মংলা বন্দরেও প্রভাব বাড়াতে পারলে বঙ্গোপসাগরে চিনের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। পাশাপাশি তেল আমদানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যপথেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার