তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি আলাদা করে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুরসভাও। তদন্ত যত এগোচ্ছে, সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পুরসভায় জমা দেওয়া বিল্ডিং প্ল্যানে যে ধরনের নির্মাণের কথা উল্লেখ ছিল, বাস্তবে তার সঙ্গে মিল নেই।
একই পরিবারের একাধিক মহিলা কি আবেদন করতে পারবেন অন্নপূর্ণা যোজনায়?
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুমোদনের জন্য জমা পড়া নকশায় গোডাউনের মূল কাঠামো ‘সলিড’ পিলারের উপর দাঁড়াবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সাধারণত সলিড পিলার বলতে কংক্রিট বা ইটের তৈরি মজবুত স্তম্ভকেই বোঝানো হয়। কিন্তু দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেছেন, সেখানে কংক্রিটের বদলে লোহার পোস্ট ও বিম দিয়ে গোটা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছিল। কীভাবে অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে এই নির্মাণ হল, তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।
এছাড়াও ব্যবহৃত লোহার গুণগত মান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। তাঁদের অনুমান, খরচ কমানোর জন্য নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে লোহার বিম ও পোস্ট বেঁকে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে গোটা কাঠামো।
পুরসভার টাউন প্ল্যানিং বিভাগের প্রাক্তন চিফ ইঞ্জিনিয়ার দীপঙ্কর সিংহের মতে, এই ধরনের স্টিল স্ট্রাকচার সম্পূর্ণ ভারসাম্যের উপর নির্ভর করে। কাঠামোর কোনও একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়লেই নাট-বল্টুর সংযোগ আলগা হতে শুরু করে। তাঁর অনুমান, ভেঙে পড়ার আগে যে দুলুনি দেখা গিয়েছিল, সেটিই ছিল বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস। এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য অনুমোদিত নকশা থেকে কীভাবে নির্মাণে এত বড় পরিবর্তন হল, কারা সেই অনুমতি দিল এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তার পূর্ণ সত্য সামনে আনা।

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন