আরা: বিহারের ভোজপুর জেলায় এক যুবকের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মৃত ২৮ বছর বয়সি ভরত ভূষণ তিওয়ারি পেশায় একজন সমাজকর্মী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটার ছিলেন। বন্যা, নদীভাঙন এবং উচ্ছেদ সহ একাধিক স্থানীয় জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত সরব হতেন তিনি। প্রশাসনের পাশাপাশি খোদ শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধেও তাকে একাধিকবার সোচ্চার হতে দেখা গেছে। আর এই প্রতিবাদের জেরেই কি তাকে প্রাণ হারাতে হলো, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন বিহারের রাজনীতিতে তুমুল পারদ চড়েছে।
আরামবাগে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, উল্টে গেল যাত্রীবোঝাই বাস; মৃত ২ মহিলা, আহত বহু
ভোজপুর জেলার শাহপুর এলাকার বিলৌটি গ্রামের বাসিন্দা ভরত তিওয়ারি সম্প্রতি প্রশাসনের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু আক্রমণাত্মক পোস্ট করেছিলেন। প্রশাসনের দাবি, সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে হুমকিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে ভরতের ওপর নজরদারি শুরু হয়।
কিন্তু ঘটনার নাটকীয় মোড় ঘোরে গত ১৫ জুনের পর। ফেসবুকে একটি পোস্ট করে ভরত নিজেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, বিহার সরকার তাকে এনকাউন্টারে মেরে ফেলতে পারে! আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর ঠিক পরদিনই পুলিশ ভরতকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ বলে দাবি করে। আর তার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ ১৭ জুন শাহপুরের একটি চাষের ক্ষেতে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ভরতকে গুলি করে। পুলিশের দাবি, ভরতের কাছে অবৈধ অস্ত্র ছিল এবং তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের এই ‘আত্মরক্ষা’র তত্ত্বকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়েছে ভরতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এনকাউন্টারের ঠিক আগের একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ভরত একটি ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের কাছে থাকা পিস্তলটি পুলিশ আধিকারিকদের দিকে ছুড়ে দিচ্ছেন। পরিবারের অভিযোগ, ভরত স্পষ্টতই আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ছিলেন। অস্ত্র ফেলে দেওয়ার পরেও কেন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলো, তা নিয়ে ‘ফেক এনকাউন্টার’-এর অভিযোগ তীব্র হয়েছে। চিকিৎসকদের ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও মিলেছে বিস্ফোরক তথ্য— ভরতের শরীরে চার থেকে পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিরস্ত্র এক যুবকের শরীরে এতগুলো গুলি কেন করা হলো, তা নিয়ে পুলিশের অতি-সক্রিয়তা ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের দিকেই আঙুল তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিতর্কের ঝড় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে স্বয়ং বিহার পুলিশও প্রাথমিক তদন্তে ‘গুরুতর ত্রুটি’ থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিহার সরকার। তবে বিষয়টি কেবল রাজ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এই এনকাউন্টারের নিরপেক্ষ এবং সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে মামলা গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। পাশাপাশি পাটনা হাইকোর্টেও আবেদন করা হয়েছে। ভরত তিওয়ারির এই রহস্যমৃত্যু আদতে আইনের শাসন নাকি ক্ষমতার দম্ভে প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ, তার আসল সত্য এখন আদালতের রায়ের ওপরেই নির্ভর করছে।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন