নয়াদিল্লি: শারদোৎসব এবং বিজয়া দশমীর আনন্দ-উৎসবে বুঁদ থাকার দিন ফুরিয়েছে। ঢাকের বাদ্যি নামতেই ঘরের কোণ ছেড়ে ফের রাজনৈতিক ময়দানে নামার প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া' (INDIA Bloc)। উৎসবের আনন্দ চুকতে না চুকতেই একাদশীর দিন অর্থাৎ আজই এক মেগা ভার্চুয়াল বৈঠকের ডাক দিয়েছে জোট নেতৃত্ব। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গேயর আহ্বানে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনিয়া গান্ধী সহ বিরোধী শিবিরের তাবড় শীর্ষ নেতাদের। পুজোর আবহে রাজনৈতিক কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত থাকলেও, ছুটির আমেজ কাটতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নতুন করে আন্দোলন ও প্রতিবাদের সুর চড়াতে এককাট্টা হচ্ছে বিরোধীরা।
সূত্রের খবর, আজকের এই ভার্চুয়াল বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিশাল জনসভার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা। ওই দিন সরকারের উপর চাপ আরও বাড়াতে এবং জনগণের মধ্যে বিরোধী স্বর জোরালো করতে প্রতিটি শরিক দল নিজেদের মতো করে জমায়েতের প্রস্তুতি নেবে। গত কয়েকমাস ধরে এসআইআর বিতর্ক এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে যেভাবে রাজপথ উত্তপ্ত হয়েছিল, উৎসবের দিনেও তার আঁচ বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং পুজো মিটতেই সেই অসম্পূর্ণ কাজ হাতে নিয়ে ফের ঝাঁঝালো আন্দোলনে নামার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করতেই আজকের এই জরুরি তলব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুজোর ছুটির রেশ কাটার আগেই বিরোধী জোটের এমন অতিসক্রিয়তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আসন্ন দিনগুলোতে সংসদ থেকে রাজপথ—সব জায়গাতেই কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাতে চলেছে 'ইন্ডিয়া' শিবির। ভার্চুয়াল এই বৈঠকে শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা থেকে শুরু করে যৌথ আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সনিয়া গান্ধীর মতো হেভিওয়েট নেতাদের এই উপস্থিতি বৈঠকে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, একাদশীর এই বিশেষ বৈঠকে বিরোধীরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কী চূড়ান্ত রণকৌশল ঠিক করে এবং ১ নভেম্বরের জনসভায় কতটা শক্তি প্রদর্শন করতে সফল হয়।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন