Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সব প্রশ্নের জবাব ‘জানি না’, সিআইডি জেরায় মেজাজ হারালেন অভিষেক! মাঝরাতে মমতার বাড়ি থেকে বেরোলেন ছাতায় মুখ লুকিয়ে

সব প্রশ্নের জবাব ‘জানি না’, সিআইডি জেরায় মেজাজ হারালেন অভিষেক! মাঝরাতে মমতার বাড়ি থেকে বেরোলেন ছাতায় মুখ লুকিয়ে
সব প্রশ্নের জবাব 'জানি না', সিআইডি জেরায় মেজাজ হারান অভিষেক!ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: হাই কোর্টের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে সই জাল জালিয়াতির মামলায় ভবানীভবনে সিআইডি-র মুখোমুখি হলেন তৃণমূল ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবারের এই হাই-ভোল্টেজ জেরা পর্বের ছত্রে ছত্রে তৈরি হলো তীব্র উত্তেজনা ও নাটকীয়তা। সিআইডি সূত্রে খবর, রেজোলিউশন কপি সংক্রান্ত প্রায় প্রতিটি কঠিন প্রশ্নের জবাবেই অভিষেক কেবল ‘জানি না’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং জেরার এক পর্যায়ে অফিসারদের ওপর প্রচণ্ড মেজাজও হারান তিনি। প্রায় সাড়ে এগারো ঘণ্টা ধরে চলা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সোজা চলে যান কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেখানে মাঝরাত পর্যন্ত জরুরি বৈঠকের পর, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা এড়াতে আক্ষরিক অর্থেই কালো ছাতায় মুখ লুকিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন অভিষেক।


তৃণমূলের অন্দরে যখন একের পর এক বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে, ঠিক তখনই সই জাল কাণ্ডে অভিষেককে বাগে আনতে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। সিআইডি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ছয়-সাত জন অফিসার অভিষেককে জেরা করা শুরু করলেও, পরবর্তীতে একসঙ্গে ১০ জন দুঁদে আধিকারিক প্রশ্নের ঝুলি নিয়ে তাঁর সামনে হাজির হন। স্বয়ং সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকার এই জিজ্ঞাসাবাদের তদারকি করেন। গোয়েন্দাদের প্রশ্ন ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ— বৈঠকে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও বহু বিধায়কের সই কীভাবে ওই রেজোলিউশন চিঠিতে চলে এল? আসল রেজোলিউশন কপিটাই বা এখন কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে? এই সমস্ত জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠের মতো কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ে সম্পূর্ণ খেই হারিয়ে ফেলেন অভিষেক। বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরে ‘জানি না’ বলার পাশাপাশি তাঁর এই মেজাজ হারানো ও অসহযোগিতার আচরণে সিআইডি আধিকারিকরা চরম অসন্তুষ্ট। আর সেই কারণেই আগামী রবিবারই ফের তাঁকে সমস্ত নথি-সহ ভবানীভবনে তলব করা হয়েছে।


গোটা ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক পরেই। গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু বিধানসভায় জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনাপত্র সেই সময় তৈরি করেনি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর, ১৯ মে পুনরায় কালীঘাটে বিধায়কদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে অনেকেই গরহাজির ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে বিধানসভার সচিবের কাছে যে ৭০ জন বিধায়কের সই করা বিরোধী দলনেতার সমর্থনপত্র জমা দেওয়া হয়, তাতেই আসল জালিয়াতি ধরে ফেলেন সচিব। দুই জায়গার সইয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল গরমিল মেলায় বিষয়টি সোজা থানায় পৌঁছায় এবং পরে সিআইডি এর তদন্তভার হাতে নেয়। ইতিমধ্যেই বহু বিধায়ককে জেরা করা হয়েছে এবং দলেরই একাংশ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক সরাসরি এই জালিয়াতির পেছনে অভিষেকের দিকে আঙুল তুলেছেন।


ভবানীভবনের টানটান জেরা শেষে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা পৌঁছান দলনেত্রীর কালীঘাটের বাসভবনে। সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিলেন বেশ কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতা। দল যখন চতুর্মুখী সঙ্কটে জর্জরিত, তখন সিআইডি জেরা এবং আগামী রবিবারের পুনরুত্থান নিয়ে সেখানে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অত্যন্ত গোপন ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। এরপর রাত বারোটা বেজে দশ মিনিট নাগাদ দলনেত্রীর বাড়ি থেকে যখন অভিষেক বের হন, তখন উপস্থিত সংবাদমাধ্যমকে কার্যত চমকে দিয়ে একটি বড় কালো ছাতার আড়ালে সম্পূর্ণ মুখ ঢেকে গাড়িতে উঠে যান তিনি। ভবানীভবনের ম্যারাথন জেরা বা কালীঘাটের গভীর রাতের কৌশলগত বৈঠক নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। রবিবার সিআইডি-র পরবর্তী চালের ওপরই এখন নির্ভর করছে বাংলার রাজনীতির ভাগ্য।

বিষয় : TMC MAMATABANERJEE AbhishekBanerjee PoliticalCrisis CIDINVESTIGATION

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সব প্রশ্নের জবাব ‘জানি না’, সিআইডি জেরায় মেজাজ হারালেন অভিষেক! মাঝরাতে মমতার বাড়ি থেকে বেরোলেন ছাতায় মুখ লুকিয়ে

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: হাই কোর্টের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে সই জাল জালিয়াতির মামলায় ভবানীভবনে সিআইডি-র মুখোমুখি হলেন তৃণমূল ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবারের এই হাই-ভোল্টেজ জেরা পর্বের ছত্রে ছত্রে তৈরি হলো তীব্র উত্তেজনা ও নাটকীয়তা। সিআইডি সূত্রে খবর, রেজোলিউশন কপি সংক্রান্ত প্রায় প্রতিটি কঠিন প্রশ্নের জবাবেই অভিষেক কেবল ‘জানি না’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং জেরার এক পর্যায়ে অফিসারদের ওপর প্রচণ্ড মেজাজও হারান তিনি। প্রায় সাড়ে এগারো ঘণ্টা ধরে চলা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি সোজা চলে যান কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেখানে মাঝরাত পর্যন্ত জরুরি বৈঠকের পর, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা এড়াতে আক্ষরিক অর্থেই কালো ছাতায় মুখ লুকিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন অভিষেক।তৃণমূলের অন্দরে যখন একের পর এক বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে, ঠিক তখনই সই জাল কাণ্ডে অভিষেককে বাগে আনতে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। সিআইডি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ছয়-সাত জন অফিসার অভিষেককে জেরা করা শুরু করলেও, পরবর্তীতে একসঙ্গে ১০ জন দুঁদে আধিকারিক প্রশ্নের ঝুলি নিয়ে তাঁর সামনে হাজির হন। স্বয়ং সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকার এই জিজ্ঞাসাবাদের তদারকি করেন। গোয়েন্দাদের প্রশ্ন ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ— বৈঠকে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও বহু বিধায়কের সই কীভাবে ওই রেজোলিউশন চিঠিতে চলে এল? আসল রেজোলিউশন কপিটাই বা এখন কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে? এই সমস্ত জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠের মতো কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ে সম্পূর্ণ খেই হারিয়ে ফেলেন অভিষেক। বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তরে ‘জানি না’ বলার পাশাপাশি তাঁর এই মেজাজ হারানো ও অসহযোগিতার আচরণে সিআইডি আধিকারিকরা চরম অসন্তুষ্ট। আর সেই কারণেই আগামী রবিবারই ফের তাঁকে সমস্ত নথি-সহ ভবানীভবনে তলব করা হয়েছে।গোটা ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক পরেই। গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু বিধানসভায় জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনাপত্র সেই সময় তৈরি করেনি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর, ১৯ মে পুনরায় কালীঘাটে বিধায়কদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে অনেকেই গরহাজির ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে বিধানসভার সচিবের কাছে যে ৭০ জন বিধায়কের সই করা বিরোধী দলনেতার সমর্থনপত্র জমা দেওয়া হয়, তাতেই আসল জালিয়াতি ধরে ফেলেন সচিব। দুই জায়গার সইয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল গরমিল মেলায় বিষয়টি সোজা থানায় পৌঁছায় এবং পরে সিআইডি এর তদন্তভার হাতে নেয়। ইতিমধ্যেই বহু বিধায়ককে জেরা করা হয়েছে এবং দলেরই একাংশ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক সরাসরি এই জালিয়াতির পেছনে অভিষেকের দিকে আঙুল তুলেছেন।ভবানীভবনের টানটান জেরা শেষে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা পৌঁছান দলনেত্রীর কালীঘাটের বাসভবনে। সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিলেন বেশ কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতা। দল যখন চতুর্মুখী সঙ্কটে জর্জরিত, তখন সিআইডি জেরা এবং আগামী রবিবারের পুনরুত্থান নিয়ে সেখানে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অত্যন্ত গোপন ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। এরপর রাত বারোটা বেজে দশ মিনিট নাগাদ দলনেত্রীর বাড়ি থেকে যখন অভিষেক বের হন, তখন উপস্থিত সংবাদমাধ্যমকে কার্যত চমকে দিয়ে একটি বড় কালো ছাতার আড়ালে সম্পূর্ণ মুখ ঢেকে গাড়িতে উঠে যান তিনি। ভবানীভবনের ম্যারাথন জেরা বা কালীঘাটের গভীর রাতের কৌশলগত বৈঠক নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। রবিবার সিআইডি-র পরবর্তী চালের ওপরই এখন নির্ভর করছে বাংলার রাজনীতির ভাগ্য।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার