কলকাতা: বিধানসভার পর এবার দেশের সংসদ ভবনেও কি আছড়ে পড়তে চলেছে ‘আসল তৃণমূল’ বনাম ‘মমতা’র লড়াই? লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক মুখেই এই জল্পনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। রাজনৈতিক মহলের জোর গুঞ্জন, লোকসভার দখল নিতে চলেছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদরাই, আর সেখানে দলনেতা হিসেবে সর্বাগ্রে উঠে আসছে বারাসতের চারবারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম। যদিও এই কানাঘুষো নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন খোদ সাংসদ, কিন্তু এরই মাঝে শুক্রবার সকালে তাঁর একটি বিস্ফোরক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এই জল্পনার আগুনে কার্যত ঘি ঢেলে দিয়েছে। নীতি ও আদর্শের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন শাসকের ব্যর্থতার দিকে, যা ভালোমতোই অস্বস্তিতে ফেলেছে ঘাসফুল শিবিরকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার দশকেরও বেশি সময়ের এই বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ছাব্বিশের ভোটের আগে পর্যন্ত লোকসভার মুখ্য সচেতক ছিলেন। কিন্তু মাসখানেক আগে হঠাৎই তাঁকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই পদে বসানোতেই ফাটল চওড়া হয়। প্রকাশ্যে আইপ্যাকের (I-PAC) বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলের যাবতীয় পদ ছেড়ে দেন কাকলি। এর পরই কেন্দ্রের তরফে তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হলে প্রাক্তন সহযোদ্ধা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর গোপন আঁতাতের তত্ত্ব আরও জোরালো হয়। সূত্রের খবর, আগামী রবিবার অর্থাৎ ৭ জুন তৃণমূলের প্রায় কুড়ি জন সাংসদকে নিয়ে একটি গোপন বৈঠক হতে চলেছে এবং সব ঠিক থাকলে সোমবার ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকের দিনই লোকসভার স্পিকারের কাছে নতুন দলনেতা হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম প্রস্তাব করে স্বাক্ষরিত চিঠি জমা পড়তে পারে। এই চরম ডামাডোলের মাঝেই এক্স হ্যান্ডেলে কাকলি লিখেছেন, যিনি চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি স্রেফ নিজের স্বার্থের কথা ভাবেন না; বর্তমান পরিস্থিতি আসলে নীতির বিরুদ্ধে রায় এবং শাসনেরই ব্যর্থতা। বর্ষীয়ান এই সাংসদের এমন পোস্ট স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, দিল্লিতে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ‘মালিকানা’ বদল এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন