কলকাতা: যুবভারতীতে বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির সেই নজিরবিহীন ফ্লপ মেগা শো এবং চরম বিশৃঙ্খলার জেরে এবার সরাসরি পুলিশের আতশকাচের নিচে রাজ্যের প্রাক্তন দাপুটে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। রাজ্যে সরকার বদল হতেই যুবভারতীর সেই কেলেঙ্কারি নিয়ে শুরু হয়ে গেল মারাত্মক প্রশাসনিক অ্যাকশন। খোদ আয়োজক শতদ্রু দত্তের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এবার প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) রুজু করল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। এই মেগা আইনি পদক্ষেপের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় এফআইআরের কপি শেয়ার করে ‘সত্যের জয়’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শতদ্রু দত্ত। একই সঙ্গে এই কড়া পদক্ষেপের জন্য রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলকে (DG) বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তোলাবাজি, প্রতারণা থেকে শুরু করে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র—একাধিক বিস্ফোরক ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেফতারি এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একগুচ্ছ কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ধারা ৩(৫) (পূর্বপরিকল্পিতভাবে অনেকে মিলে একই উদ্দেশ্যে অপরাধ ঘটানো), ধারা ৩০৮(২)-এর অধীনে সরাসরি তোলাবাজির মারাত্মক অভিযোগ, ধারা ৩১৮(৪)-এ সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, ধারা ৩৫১(২)-এ অপরাধের উদ্দেশ্যে ভয় দেখানো এবং ধারা ৬১(২)-এর অধীনে সুপরিকল্পিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। এই সমস্ত জামিন অযোগ্য ধারাগুলি যুক্ত হওয়ায় প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার রাস্তা কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শতদ্রু দত্তের আমন্ত্রণে ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ এবং রড্রিগো দি’পল কলকাতায় পা রেখেছিলেন। যুবভারতীতে ১৩ ডিসেম্বরের সেই হাই-ভোল্টেজ মেগা অনুষ্ঠান ঘিরে উন্মাদনা এতটাই চরম ছিল যে ১৮ হাজার টাকার টিকিট কালোবাজারির জেরে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু চরম অব্যবস্থাপনার কারণে কলকাতার সেই স্বপ্নের অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত সুপারফ্লপ হয়; গ্যালারি ভেঙে শয়ে শয়ে দর্শক মাঠে ঢুকে পড়ায় আন্তর্জাতিক স্তরে মুখ পুড়েছিল তিলোত্তমার। অথচ দেশের বাকি তিন শহর মুম্বই, দিল্লি ও হায়দরাবাদে এই অনুষ্ঠান ব্যাপক সফল হয়েছিল।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই এই গোটা কেলেঙ্কারির নেপথ্যে থাকা আসল সত্য নিয়ে বিস্ফোরক মুখ খুলেছেন শতদ্রু দত্ত। তৎকালীন সরকারের আমলে প্রভাবশালী না হওয়ায় তাঁকেই ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে জেলে পোরা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। শতদ্রুর স্পষ্ট অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর কাছে জোরপূর্বক বিপুল সংখ্যক ভিআইপি টিকিট ও পাসের দাবি করেছিলেন। শতদ্রু তাতে আপত্তি জানালে মন্ত্রী রীতিমতো হুঙ্কারের সুরে বলেছিলেন, “এই মাঠ তো আমার, আমি তোর থেকে পারমিশন নেব কেন?” এখানেই শেষ নয়, শতদ্রুর আরও মারাত্মক অভিযোগ, মন্ত্রী জোর করে নিয়ম ভেঙে মেসির কাঁধে-বুকে হাত দিয়ে ছবি তুলেছেন এবং নিজের পরিবারের লোকেদের মাঠে নামিয়ে অভব্য আচরণ করেছেন, যার জেরে আন্তর্জাতিক স্তরেও চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পুলিশকে আগেভাগে সতর্ক করলেও তৎকালীন প্রভাবশালীদের চাপে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এবার নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কড়া নির্দেশে তদন্তকারী আধিকারিকরা নড়েচড়ে বসেছেন। শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, কলকাতার অনুষ্ঠান যারা সুপরিকল্পিতভাবে ভন্ডুল করেছিল, সেইসব রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে সমস্ত ভিডিও প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে এবং তিনি আইনি পথে শেষ দেখে ছাড়বেন। আর এই এফআইআর রুজু হওয়ার পরেই কামারহাটি থেকে শুরু করে কলকাতা—তৃণমূলের অন্দরে এখন নতুন করে গ্রেফতারির আতঙ্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন