Hidden Stories (বাংলা)

জেলবন্দি হেভিওয়েটদের থেকেও শিক্ষা নেই! এবার বাঁকুড়ায় চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে শ্রীঘরে একঝাঁক তৃণমূল নেতা

বাঁকুড়া: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে পুরসভা কিংবা সমবায়— বাংলায় নিয়োগ কেলেঙ্কারির জাল ইতিমধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই নিয়ে আদালতের নির্দেশে হাজার হাজার বেআইনি চাকরি বাতিল হয়েছে, গরাদখানায় দিন কাটছে প্রাক্তন মন্ত্রী ও পদস্থ কর্তাদের। কিন্তু এত কিছুর পরও যে একশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতার হুঁশ ফেরেনি, তার প্রমাণ মিলল আবারও। এবার চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ও প্রতারণার সরাসরি অভিযোগে বাঁকুড়ায় একসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হলো শাসকদলের তিন প্রভাবশালী নেতাকে। সোমবার রাতের এই ধুন্ধুমার কাণ্ডে জেলা জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9838]গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে বাঁকুড়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তৃণমূলের এই তিন নেতাকে পাকড়াও করে। ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আর্থিক প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে খাতড়া ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর সঙ্গেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন খাতড়ার প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা বর্তমানে তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হিড়বাঁধ ব্লকের দাপুটে তৃণমূল নেতা বিদ্যুৎ রায়। মঙ্গলবার সকালেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ধৃত তিন নেতাকে খাতড়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়।[TECHTARANGA-POST:9837]তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণা মামলার সূত্রপাত খাতড়ার বৈদ্যনাথপুর এলাকার এক বাসিন্দার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে। ওই ব্যক্তির অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভনীয় টোপ দিয়েছিলেন এই তৃণমূল নেতারা। সেই প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পা দিয়ে তিনি দফায় দফায় অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে ২ লক্ষ টাকা এবং সরাসরি নগদে আরও ১ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিলেন অভিযুক্তদের হাতে। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও মেলেনি কোনো চাকরি, উল্টে দিনের পর দিন শুধু আশ্বাসই দিয়ে গিয়েছেন নেতারা।[TECHTARANGA-POST:9836]পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় এবং প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তি যখন নিজের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চান, তখন শুরু হয় টালবাহানা। অভিযুক্ত নেতারা নগদ ১ লক্ষ টাকা কোনোমতে ফেরত দিলেও বাকি টাকা আটকে রাখেন। অভিযোগ, বকেয়া ২ লক্ষ টাকা চাইতে গেলে ওই গ্রামবাসীকে উল্টে মুখ বন্ধ রাখার জন্য প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়েই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। যদিও মঙ্গলবার আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে ধৃত যুব তৃণমূল সভাপতি সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন এবং এটিকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন।

জেলবন্দি হেভিওয়েটদের থেকেও শিক্ষা নেই! এবার বাঁকুড়ায় চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে শ্রীঘরে একঝাঁক তৃণমূল নেতা

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার