কলকাতা: বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এবার সামনে এল তাঁর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। বুধবার সকালে হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার পর ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ পাঠানো হয়েছিল এসএসকেএম হাসপাতালে।
হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পরিচালকের শরীরে একাধিক মারাত্মক ও গুরুতর আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক উপর থেকে নীচে পড়ার ফলেই মানবদেহে এই ধরনের মারাত্মক জখম হওয়া সম্ভব।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যে সমস্ত তথ্য উঠে এসেছে:
মাথা ও মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত: পরিচালকের মাথার বাঁ দিকে অত্যন্ত গুরুতর আঘাত লেগেছে। এর ফলে তাঁর মাথার বাঁ দিকের খুলির হাড় (স্কাল) ভেঙে গিয়েছে। একইসঙ্গে তীব্র আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে ও অভ্যন্তরীণ অংশে প্রবল রক্তক্ষরণ হয়েছে।
শরীরের বাঁ দিকে তীব্র ক্ষত: উপর থেকে পড়ার অভিঘাত মূলত শরীরের বাঁ দিকের ওপর দিয়েই গিয়েছে। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, পরিচালকের বাঁ দিকের পাঁজর এবং পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া তাঁর বাঁ দিকের কোমর ভেঙে একেবারে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে।
অ্যাব্রেশনস বা ঘর্ষণের চিহ্ন: অনীক দত্তের মুখমণ্ডল, পিঠ এবং কোমরের বাঁ দিকে তীব্র ঘর্ষণের (অ্যাব্রেশনস) গভীর দাগ পাওয়া গিয়েছে।
অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও ফুসফুসে আঘাত: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পাশাপাশি তাঁর ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার (হেমোথোরাক্স) প্রমাণ মিলেছে।
চিকিৎসক ও তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, মাথা ও ঘাড়ের গভীর ক্ষত, অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণেই মূলত এই মর্মান্তিক পরিণতি। এই প্রাথমিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন