কলকাতা: ভোট মিটতেই যেন ভাগ্যলিপি বদলে গেল ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত স্নেহধন্য তথা ফলতার বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় আইনি ধাক্কা খেলেন তিনি। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্ট এক নজিরবিহীন নির্দেশিকায় জাহাঙ্গির খানের ওপর থাকা সমস্ত রকম আইনি রক্ষাকবচ একলপ্তে প্রত্যাহার করে নিল। উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গত ১৮ মে হাই কোর্টের পক্ষ থেকে যে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, সেটাও পুরোপুরি বাতিল করা হচ্ছে। আর এই নির্দেশের পরেই তৃণমূলের অন্দরে ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত এই দাপুটে নেতার গ্রেফতারির জল্পনা এক ধাক্কায় বহু গুণ বেড়ে গেল।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলতার এই তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অপরাধমূলক কাজের অভিযোগে মোট সাত-সাতটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছিল। লোকসভা ভোটে বিপুল লিড দেওয়া ফলতায় এবার পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে গ্রেফতারি এড়াতে তড়িঘড়ি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে রক্ষাকবচ আদায় করেছিলেন জাহাঙ্গির। এর আগে ২০১৯ সালের একটি পুরনো মামলাতেও তিনি হাই কোর্ট থেকে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছিলেন, যার মেয়াদ বুধবারই শেষ হওয়ার কথা ছিল।
মঙ্গলবার বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে এই মামলাগুলি শুনানির জন্য উঠলে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিচারপতি স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ করেন যে, মামলাকারীকে কেবল মাত্র নির্বাচনের কারণেই অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল, তিনি এফআইআর খারিজের আবেদন নিয়ে আসেননি। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী যখন তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো সম্ভব, তখন কেন এই রক্ষাকবচ বহাল রাখা হবে? এই যুক্তি টেনেই দুপুরের শুনানিতে জাহাঙ্গিরের সমস্ত রক্ষাকবচ এক ঝটকায় তুলে নেয় আদালত।
আইনি বিপাকের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও ফলতার মাটিতে চরম লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে জাহাঙ্গির খানকে। অথচ এই ফলতা বিধানসভা এলাকা থেকেই গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাই দেড় লক্ষেরও বেশি ভোটের বিশাল লিড পেয়েছিলেন। কিন্তু রবিবারের পুনর্নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই দেখা যায়, সেই চেনা দুর্গে ঘাসফুল শিবিরের ভোটব্যাঙ্ক তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান গোটা বিধানসভা জুড়ে সাকুল্যে মাত্র হাজার সাতেকের কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন, যার জেরে খোদ প্রার্থীর জামানত পর্যন্ত জব্দ হয়ে গিয়েছে। এমনকি, খোদ প্রার্থী জাহাঙ্গির নিজেও ভয়ে ভোট দিতে বুথমুখো হননি বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন।
আদালতের নির্দেশে কোণঠাসা জাহাঙ্গিরের পক্ষে এদিন সওয়াল করতে গিয়ে তাঁর আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতের কাছে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে জবাব দেওয়ার জন্য কিছুটা অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু আদালত তাতে আর আমল দেয়নি। উল্লেখ্য, ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচন শুরু হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে আচমকাই এক নাটকীয় মোড় এনে জাহাঙ্গির খান ঘোষণা করে দিয়েছিলেন যে, তিনি এই ভোটে আর লড়াই করবেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের নিশ্চিত পরাজয় এবং আইনি খাঁড়ার কথা আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন তৃণমূলের এই ‘পুষ্পা’। এখন দেখার, হাই কোর্টের রক্ষাকবচ উঠে যাওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন জাহাঙ্গির খানকে হেফাজতে নিতে কত দ্রুত পদক্ষেপ করে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন