কলকাতা: মেগা নির্বাচনের আবহ কাটতে না কাটতেই এবার পশ্চিমবঙ্গের দিকে নজর সোজা দিল্লির। আগামী জুনের মাঝামাঝি সময়ে এক হাই-প্রোফাইল সফরে বঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর তাঁর এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ লাগোয়া সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকাগুলি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, জুনের এই সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একাধিক অঞ্চল সরেজমিন পরিদর্শন করবেন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসবেন। ইতিমধ্যেই দিল্লির সাউথ ব্লকে এই সফর ঘিরে প্রশাসনিক মহলে চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে সীমান্ত অপরাধ— সব কিছু নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আকস্মিক সক্রিয়তা রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ, গবাদি পশু ও মাদক পাচার, জাল নোটের কারবার এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর— সমস্ত কিছু নিয়ে এক সুনিশ্চিত ও বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে চান অমিত শাহ। এই হাই-ভোল্টেজ সফরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের (BSF) শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গেও তাঁর একটি বিশেষ বৈঠকের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের কথা মাথায় রেখে সীমান্তবর্তী জেলাগুলির জেলা প্রশাসন ও পুলিশকর্তাদেরও আগাম সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অমিত শাহের এই পশ্চিমবঙ্গ সফর মোটেও কোনো সাধারণ প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বিজেপি নেতৃত্ব সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের ইস্যুটিকে ফের জাতীয় রাজনীতির লাইমলাইটে নিয়ে আসতে চাইছে। বিশেষ করে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এ রাজ্যে সোচ্চার থেকেছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অমিত শাহের এই পরিদর্শনের মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়ানো এবং নিজেদের রাজনৈতিক জমি শক্ত করার এক সুপরিকল্পিত ছক রয়েছে কেন্দ্রের।
তবে বঙ্গে পা রাখার আগে দেশের অন্যান্য প্রান্তের আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলিও চষে ফেলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই তিনি রাজস্থানের বিকানের এবং সোমবার বিএসএফের সাঞ্চ সীমান্ত চৌকি পরিদর্শন করে নিরাপত্তা বৈঠক সেরেছেন। এরপর আগামী ২৯ মে গুজরাতের ভুজ সফরে গিয়ে বিতর্কিত ‘হারামি নালা’ এলাকা ঘুরে দেখবেন শাহ এবং ৫ জুন ত্রিপুরা সীমান্ত সফরের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর। কেন্দ্রীয় সূত্রের বক্তব্য, দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি আরও শক্তিশালী করা ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতেই এই ধারাবাহিক সফরসূচি। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ সফর ঘিরেই এখন সব চেয়ে বেশি পারদ চড়ছে দিল্লি ও কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন