নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে চলা 'নিট-ইউজি ২০২৬' পরীক্ষা কেলেঙ্কারি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের জট খোলার আইনি লড়াইয়ে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এই সংক্রান্ত এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ। ক্ষুব্ধ আদালত স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তুলেছে, পুরনো ভুল থেকে কেন শিক্ষা নেওয়া হয়নি? এই পরীক্ষার সঙ্গে যেহেতু দেশের প্রায় ২৩ লক্ষ মেডিক্যাল পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে, তাই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এনটিএ-সহ সংশ্লিষ্ট কমিটিকে আগামী মাত্র ৩ দিনের মধ্যে আদালতে হলফনামা জমা দেওয়ার চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
সোমবার শুনানির শুরুতেই মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী তনভী দুবে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের কাছে এক অত্যন্ত জরুরি ও দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। তিনি জোরালো সওয়াল করে বলেন যে, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় এবং আদালতের উচিত কোনোভাবেই মামলা ফেলে না রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর নিষ্পত্তি করা। মামলাকারীদের এই যুক্তিতে পূর্ণ মান্যতা দিয়েই সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ মূল মামলার পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত থাকা সমস্ত সমান্তরাল আবেদনকে একসঙ্গে গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনি নোটিস জারি করেছে। একই সঙ্গে এই মামলার সমস্ত নথির অনুলিপি ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার দফতরে দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিনের শুনানিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে পরীক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা আমলা ও এনটিএ কর্তৃপক্ষের দিকে। বিগত দিনেও নিট পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে যখন একাধিক কেলেঙ্কারি সামনে এসেছিল, তখন সুপ্রিম কোর্ট নিজে উদ্যোগী হয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও নজরদারির জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রিফর্ম প্যানেল গঠন করে দিয়েছিল। সোমবার সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে বিচারপতিরা অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলির মারাত্মক বিপর্যয় এবং ভুল থেকে যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিন্দুমাত্র কোনো শিক্ষা নেয়নি, তা বর্তমান পরিস্থিতি দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট আগে কমিটি গড়ার পরেও কীভাবে একই ধরনের গলদ বারবার ফিরে আসে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের পর্যবেক্ষণ—নিটের মতো দেশের অন্যতম বৃহত্তম প্রবেশিকা পরীক্ষার রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রাতিষ্ঠানিক খামতি রয়ে গিয়েছে।
এই প্রশাসনিক গাফিলতির গোড়ায় পৌঁছাতে সোমবার মূলত দুটি অত্যন্ত কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রথমত, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-কে আগামী মাত্র ৩ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে একটি সুনির্দিষ্ট হলফনামা জমা দিতে হবে, যেখানে গত ১৪ নভেম্বর পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যে বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তার আসল কাজের অগ্রগতি ঠিক কী—তা পরিষ্কার করে জানাতে হবে। দ্বিতীয়ত, আদালতের তরফে জে. রাধাকৃষ্ণনকেও আগামী ৩ দিনের মধ্যে পৃথক একটি হলফনামা দিয়ে কমিটির দেওয়া সুপারিশগুলি গ্রাউন্ড জিরোতে বাস্তবায়িত করতে প্রশাসন ঠিক কী কী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল, তার নিখুঁত বিবরণ দিতে বলা হয়েছে। এনটিএ-র ডিরেক্টর জেনারেল অভিষেক সিং যখন সংসদীয় কমিটির সামনে দাঁড়িয়ে ‘সিস্টেমের বাইরে লিক’ হওয়ার অজুহাত দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই সুপ্রিম কোর্টের এই ৩ দিনের চরম ডেডলাইন কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্রের ওপর চাপ এক ধাক্কায় অনেক বাড়িয়ে দিল। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ হলফনামা আদালতে জমা পড়ার পরেই সুপ্রিম কোর্ট নিট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করবে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন