কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র গৃহযুদ্ধ। দলের একদা শীর্ষ নেতাদের একাংশ যখন নাম না করে ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলছেন, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতিতে এক মহা বিস্ফোরণ ঘটালেন তৃণমূলের হেভিওয়েট চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন। সমস্ত রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানালেন তিনি। শান্তনুর এই প্রকাশ্য ‘ধন্যবাদ’ পোস্টের পরই বঙ্গ রাজনীতিতে জোর জল্পনা— তবে কি এবার সরাসরি পদ্ম শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন এই প্রবীণ নেতা?
রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরেই স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একগুচ্ছ বড়সড় ও জনকল্যাণমুখী পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি হাসপাতালে স্বচ্ছ নিয়োগের জন্য যেমন নতুন নীতি আনা হচ্ছে, তেমনই বাংলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু করেছে বিজেপি সরকার। আর শুভেন্দুর এই সমস্ত মাস্টারস্ট্রোককে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন স্বয়ং শান্তনু সেন। নিজের ফেসবুক ওয়ালে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, ‘চিকিৎসা আন্দোলনের দীর্ঘদিনের একজন সৈনিক হিসেবে, শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়কে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একাধিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
একসময়ে তৃণমূলের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন। তবে আর জি কর কাণ্ডের সময় ‘রাত দখল’ আন্দোলনকে পরোক্ষ সমর্থন এবং আর জি করের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান থাকাকালীন দলবিরোধী একাধিক ক্ষোভ উগরে দেওয়ায় তাঁকে মুখপাত্রের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। যদিও পরে সেই দূরত্ব কিছুটা মিটেছিল। কিন্তু ছাব্বিশের মহাযুদ্ধে দলের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটতেই এবার এক লহমায় খোলস ছেড়ে বেরোলেন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (IMA) এই প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি তথা বর্তমান রাজ্য সম্পাদক।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পোস্ট স্রেফ একজন চিকিৎসক নেতার সৌজন্য প্রকাশ নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের একের পর এক শীর্ষ নেতা দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করছেন, আর এই আবহে শান্তনু সেনের মতো নেতার শুভেন্দুকে দেওয়া এই প্রকাশ্য অভিনন্দন আসলে তৃণমূলের কফিনে আরও একটা বড় পেরেক। আইএমএ বেঙ্গল ব্রাঞ্চের বর্তমান রাজ্য সম্পাদক হিসেবে নিজের সাংগঠনিক ক্ষমতাকে জাহির করে যেভাবে তিনি নতুন সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিলেন, তা তৃণমূলের অন্দরমহলের ফাটলকে এক লহমায় আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার, এই চাঞ্চল্যকর ফেসবুক পোস্টের পর নবান্নের অলিন্দে শান্তনু সেনের পা রাখা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা কি না।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন