কলকাতা: দীর্ঘ ১৪ বছরের খরা কাটিয়ে ফের একবার শহর কলকাতায় পা রাখতে চলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও বিদেশসচিব। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও শনিবার তিলোত্তমা থেকেই তাঁর হাইভোল্টেজ ভারত সফর শুরু করতে চলেছেন। সরকারি সূত্রে খবর, এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরে তাঁর সঙ্গে থাকছেন তাঁর স্ত্রীও। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মার্কিন বিদেশসচিবের এই কলকাতা সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে চরম উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে মার্কো রুবিওর বিশেষ বিমান। বিমানবন্দর থেকে আমেরিকার বিদেশসচিব সস্ত্রীক প্রথমেই চলে যাবেন মাদার হাউসে। সেখান থেকে তাঁর যাওয়ার কথা চিলড্রেনস হোমে। এরপর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালও পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর। কলকাতায় দিনভর ঠাসা কর্মসূচি শেষ করে শনিবার বিকেলেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। এর আগে ২০১২ সালের মে মাসে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিন্টন ভারত সফরে এসে কলকাতায় এসেছিলেন এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করেছিলেন।
সরকারি মহলের একাংশের দাবি, কলকাতায় এই সংক্ষিপ্ত সফরের মাঝেই বাংলার নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হতে পারে মার্কো রুবিওর। যদিও এই বৈঠকের বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও কোনও সিলমোহর দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, তা ছিল নজিরবিহীন। সেই আবহে ট্রাম্পের অতি বিশ্বস্ত বিদেশসচিবের এই কলকাতা সফর এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক বাংলায় মার্কিন বিনিয়োগের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে কলকাতার গুরুত্ব আমেরিকার কাছে অপরিসীম। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও মায়ানমারের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে ওয়াশিংটন। এই নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়গুলি নিয়ে রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে রুবিওর আলোচনা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ভারতে চারদিনের সরকারি সফরে থাকছেন মার্কো রুবিও। চলতি বছরেই আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বর্ষপূর্তি হতে চলেছে। এই উপলক্ষ্যে আমেরিকান দূতাবাসের তরফে প্রচারিত এক বিশেষ বার্তায় রুবিওকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আমেরিকা তার স্বাধীনতার ২৫০ বর্ষপূর্তি উদ্যাপন করতে চলেছে। আমরা আমাদের ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে এই আনন্দ উদ্যাপন করতে চাই। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, আর আমরা প্রাচীনতম।” কলকাতা সফর সেরে দিল্লি পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি কোয়াড গোষ্ঠীর বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকেও যোগ দেবেন মার্কিন বিদেশসচিব।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন