Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

উত্তরে ডানা মেলছে বর্ষা, দক্ষিণে চাতকের হাহাকার! তীব্র গরমে কালবৈশাখীর মরণকামড় আছড়ে পড়বে এই ৪ জেলায়

উত্তরে ডানা মেলছে বর্ষা, দক্ষিণে চাতকের হাহাকার! তীব্র গরমে কালবৈশাখীর মরণকামড় আছড়ে পড়বে এই ৪ জেলায়
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: রোদ আর ভ্যাপসা গরমের জেরে দক্ষিণবঙ্গের বাতাসে যেন আগুন ঝরছে। ক্রমশ হু হু করে পারদ চড়ার পাশাপাশি বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার মেলবন্ধনে শহরবাসীর নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। এই ত্রাহি ত্রাহি পরিস্থিতিতে চাতক পাখির মতো এক ফোঁটা স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো দিন গুনছে কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর এখনই দক্ষিণবঙ্গের জন্য পাকাপাকি কোনো সুখবর শোনাতে পারছে না। উল্টোদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রাক-বর্ষার জেরে ঘনিয়ে আসছে চরম দুর্যোগ। পাহাড় ও ডুয়ার্সের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।


আবহাওয়াবিদদের মতে, এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা বিহার এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ বাংলাদেশে অবস্থান করছে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। এখানেই শেষ নয়, অপর একটি অক্ষরেখা উত্তরপ্রদেশ থেকে ওড়িশা উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যা ঝাড়খণ্ডের ওপর দিয়ে গিয়েছে। এই জোড়া অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের সাঁড়াশি চাপেই উত্তরবঙ্গে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি ধুমধাম করে শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ শুক্রবার থেকে আগামী রবিবার পর্যন্ত আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিংয়ের কিছু অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। সোমবার থেকে বৃষ্টির দাপট সামান্য কমলেও পাহাড়ের জেলাগুলিতে দুর্যোগ এখনই কাটছে না।


উত্তরবঙ্গ যখন বৃষ্টিতে ভাসবে, তখন দক্ষিণবঙ্গের কপালে শুধুই জুটবে চরম অস্বস্তি আর ঘাম। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ সরকারিভাবে ঘোষণা না হলেও পশ্চিমের জেলাগুলিতে পরিস্থিতি প্রায় একই রকম থাকবে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দাদের গরমে হাসফাঁস দশা হবে। কলকাতা-সহ বাকি জেলাতেও আঠালো ভ্যাপসা গরম বজায় থাকবে। তবে এর মাঝেই আজ শুক্রবার বিকেলের পর দক্ষিণবঙ্গের ৪ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।


আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকলেও সোমবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা বদল ঘটতে পারে। সপ্তাহের প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ পুরোদমে ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে। তবে হাওয়া অফিস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দফায় দফায় এই প্রাক-বর্ষার ঝড়বৃষ্টি হলেও আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত আর্দ্রতাজনিত চরম অস্বস্তি থেকে রেহাই নেই বঙ্গবাসীর। ফলে বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও ঘাম আর গুমোট গরমের হাত থেকে এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না দক্ষিণবঙ্গবাসী।

বিষয় : WestBengalWeather kalboishakhi KolkataRain

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


উত্তরে ডানা মেলছে বর্ষা, দক্ষিণে চাতকের হাহাকার! তীব্র গরমে কালবৈশাখীর মরণকামড় আছড়ে পড়বে এই ৪ জেলায়

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: রোদ আর ভ্যাপসা গরমের জেরে দক্ষিণবঙ্গের বাতাসে যেন আগুন ঝরছে। ক্রমশ হু হু করে পারদ চড়ার পাশাপাশি বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার মেলবন্ধনে শহরবাসীর নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। এই ত্রাহি ত্রাহি পরিস্থিতিতে চাতক পাখির মতো এক ফোঁটা স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো দিন গুনছে কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর এখনই দক্ষিণবঙ্গের জন্য পাকাপাকি কোনো সুখবর শোনাতে পারছে না। উল্টোদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রাক-বর্ষার জেরে ঘনিয়ে আসছে চরম দুর্যোগ। পাহাড় ও ডুয়ার্সের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।আবহাওয়াবিদদের মতে, এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা বিহার এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ বাংলাদেশে অবস্থান করছে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। এখানেই শেষ নয়, অপর একটি অক্ষরেখা উত্তরপ্রদেশ থেকে ওড়িশা উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যা ঝাড়খণ্ডের ওপর দিয়ে গিয়েছে। এই জোড়া অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের সাঁড়াশি চাপেই উত্তরবঙ্গে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি ধুমধাম করে শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ শুক্রবার থেকে আগামী রবিবার পর্যন্ত আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিংয়ের কিছু অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। সোমবার থেকে বৃষ্টির দাপট সামান্য কমলেও পাহাড়ের জেলাগুলিতে দুর্যোগ এখনই কাটছে না।উত্তরবঙ্গ যখন বৃষ্টিতে ভাসবে, তখন দক্ষিণবঙ্গের কপালে শুধুই জুটবে চরম অস্বস্তি আর ঘাম। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ সরকারিভাবে ঘোষণা না হলেও পশ্চিমের জেলাগুলিতে পরিস্থিতি প্রায় একই রকম থাকবে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দাদের গরমে হাসফাঁস দশা হবে। কলকাতা-সহ বাকি জেলাতেও আঠালো ভ্যাপসা গরম বজায় থাকবে। তবে এর মাঝেই আজ শুক্রবার বিকেলের পর দক্ষিণবঙ্গের ৪ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকলেও সোমবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা বদল ঘটতে পারে। সপ্তাহের প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ পুরোদমে ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে। তবে হাওয়া অফিস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দফায় দফায় এই প্রাক-বর্ষার ঝড়বৃষ্টি হলেও আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত আর্দ্রতাজনিত চরম অস্বস্তি থেকে রেহাই নেই বঙ্গবাসীর। ফলে বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও ঘাম আর গুমোট গরমের হাত থেকে এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না দক্ষিণবঙ্গবাসী।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার