Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ময়দান ছাড়তেই ‘পুষ্পা’র উপর চরম ক্ষুব্ধ তৃণমূল! জাহাঙ্গিরের আত্মসমর্পণ জারি কড়া বিবৃতি

ময়দান ছাড়তেই ‘পুষ্পা’র উপর চরম ক্ষুব্ধ তৃণমূল! জাহাঙ্গিরের আত্মসমর্পণ জারি কড়া বিবৃতি
ছবি: সংগৃহীত

ফলতা: ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ফলতার দাপুটে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের আকস্মিক ‘আত্মসমর্পণ’ এবং ভোট ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। যখন প্রশ্ন উঠছিল, এই রণে ভঙ্গ দেওয়ার নেপথ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও গোপন বোঝাপড়া রয়েছে কিনা, ঠিক তখনই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে বড় পদক্ষেপ করল তৃণমূল কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়ায় অফিশিয়াল বিবৃতি জারি করে ঘাসফুল শিবিরের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল — জাহাঙ্গির খানের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ‘ব্যক্তিগত’, দলের এর সঙ্গে কোনও যোগ নেই। একইসঙ্গে, চাপের মুখে নতি স্বীকার করে মাঠ ছাড়ার জন্য জাহাঙ্গিরের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দাও করেছে দল।


মঙ্গলবার সকালে জাহাঙ্গির খান ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করতেই বিরোধী শিবিরে জল্পনা শুরু হয়। আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, "ফলতার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির খান! স্বেচ্ছায় না বিজেপিকে বার্তা? না তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া?"


এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেসবুক ও এক্সে (টুইটার) বিবৃতি দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে স্পষ্ট বলা হয়, "ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যে সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গির খান নিয়েছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, দলের নয়। ৪ঠা মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শুধু ফলতা বিধানসভাতেই আমাদের দলের শতাধিক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিনের আলোয় ভয় দেখিয়ে দলের বেশ কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুর, বন্ধ এবং জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন দেখেও না দেখার ভান করে চলেছে।"


তৃণমূল তাদের বিবৃতিতে আরও যোগ করেছে, "বিজেপির চালানো এই ভয়ঙ্কর ভয়ভীতি ও প্রশাসনিক এজেন্সির চাপের মুখেও আমাদের সাধারণ কর্মীরা অটল রয়েছেন এবং প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ এই প্রবল চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাবিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই পশ্চিমবঙ্গে এবং দিল্লিতে — দু'জায়গাতেই চলবে।"


অন্যদিকে, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের গলা বুজে আসলেও নিজের অবস্থানেই অনড় থেকেছেন জাহাঙ্গির খান। তিনি বলেন, "আমি ফলতার ভূমিপুত্র। এই মাটির মানুষের পাশে সবসময় থেকেছি, আগামীতেও থাকব। কিন্তু রাজনৈতিক সংঘাত বা অশান্তি সৃষ্টি করে নয়, মানুষের উন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য। তাই সাধারণ মানুষের শান্তি বজায় রাখতে আমি এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"


তিনি আরও যোগ করেন, "রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতা বিধানসভাকেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেই উন্নয়নমূলক প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত করাই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য। আমি চাই না রাজনৈতিক লড়াইয়ের কারণে ফলতার উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হোক।"


ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের এই ভোলবদল এবং শুভেন্দুর প্যাকেজ বন্দনার পিছনে শুধুই কি আইনি মামলার ভয়, নাকি দল থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া — তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। তবে, তৃণমূল যে এই আত্মসমর্পণকে ভালো চোখে দেখছে না, তা দলটির কড়া বিবৃতিতেই পরিষ্কার।


বিষয় : Abhisheik Banerjee WestBengalPolitics jahangirkhan FALTAPOLITICS TMCSTATEMENT

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ময়দান ছাড়তেই ‘পুষ্পা’র উপর চরম ক্ষুব্ধ তৃণমূল! জাহাঙ্গিরের আত্মসমর্পণ জারি কড়া বিবৃতি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image
ফলতা: ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ফলতার দাপুটে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের আকস্মিক ‘আত্মসমর্পণ’ এবং ভোট ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। যখন প্রশ্ন উঠছিল, এই রণে ভঙ্গ দেওয়ার নেপথ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও গোপন বোঝাপড়া রয়েছে কিনা, ঠিক তখনই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে বড় পদক্ষেপ করল তৃণমূল কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়ায় অফিশিয়াল বিবৃতি জারি করে ঘাসফুল শিবিরের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল — জাহাঙ্গির খানের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ‘ব্যক্তিগত’, দলের এর সঙ্গে কোনও যোগ নেই। একইসঙ্গে, চাপের মুখে নতি স্বীকার করে মাঠ ছাড়ার জন্য জাহাঙ্গিরের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দাও করেছে দল।মঙ্গলবার সকালে জাহাঙ্গির খান ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করতেই বিরোধী শিবিরে জল্পনা শুরু হয়। আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, "ফলতার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির খান! স্বেচ্ছায় না বিজেপিকে বার্তা? না তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া?"এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেসবুক ও এক্সে (টুইটার) বিবৃতি দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে স্পষ্ট বলা হয়, "ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যে সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গির খান নিয়েছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, দলের নয়। ৪ঠা মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শুধু ফলতা বিধানসভাতেই আমাদের দলের শতাধিক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিনের আলোয় ভয় দেখিয়ে দলের বেশ কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুর, বন্ধ এবং জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন দেখেও না দেখার ভান করে চলেছে।"তৃণমূল তাদের বিবৃতিতে আরও যোগ করেছে, "বিজেপির চালানো এই ভয়ঙ্কর ভয়ভীতি ও প্রশাসনিক এজেন্সির চাপের মুখেও আমাদের সাধারণ কর্মীরা অটল রয়েছেন এবং প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ এই প্রবল চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাবিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই পশ্চিমবঙ্গে এবং দিল্লিতে — দু'জায়গাতেই চলবে।"অন্যদিকে, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের গলা বুজে আসলেও নিজের অবস্থানেই অনড় থেকেছেন জাহাঙ্গির খান। তিনি বলেন, "আমি ফলতার ভূমিপুত্র। এই মাটির মানুষের পাশে সবসময় থেকেছি, আগামীতেও থাকব। কিন্তু রাজনৈতিক সংঘাত বা অশান্তি সৃষ্টি করে নয়, মানুষের উন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য। তাই সাধারণ মানুষের শান্তি বজায় রাখতে আমি এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"তিনি আরও যোগ করেন, "রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতা বিধানসভাকেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেই উন্নয়নমূলক প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত করাই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য। আমি চাই না রাজনৈতিক লড়াইয়ের কারণে ফলতার উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হোক।"ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের এই ভোলবদল এবং শুভেন্দুর প্যাকেজ বন্দনার পিছনে শুধুই কি আইনি মামলার ভয়, নাকি দল থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া — তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। তবে, তৃণমূল যে এই আত্মসমর্পণকে ভালো চোখে দেখছে না, তা দলটির কড়া বিবৃতিতেই পরিষ্কার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার