ডায়মন্ড হারবার: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর নিজের প্রথম জেলা সফরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা তথা ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়িয়ে একযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ফলতার নির্বাচনী জনসভা থেকে হুঙ্কার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আর জি কর কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা এবং অভিষেকের ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সম্পত্তি — এই দুই ‘কাণ্ডেরই’ শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি। শুভেন্দুর সরাসরি অভিযোগ, আর জি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। অন্যদিকে, ক্ষমতায় থাকার সুবাদে হিসাব-বহির্ভূত বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধি হয়েছে সাংসদ অভিষেকের।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অফিসারদের ইতিমধ্যেই নিজেদের কল রেকর্ডস ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বলেন, “ভাইপোর পিএ-র নির্দেশে কারা কারা ফলতা, ডায়মন্ড হারবার তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মানুষের উপর অত্যাচার করেছেন, সব বের করব।” এর পরই আর জি কর প্রসঙ্গ টেনে তাঁর সংযোজন, “বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অভিষেক গুপ্তাদের কল রেকর্ড আর চ্যাট যখন তদন্তকারীর সামনে আসবে, সেদিন দেখতে পাবেন আগের সরকারের কুকীর্তি। কত নীচে নেমেছিলেন ওঁরা!”
এই সভার মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বিস্ফোরক দাবি করেন। কারও নাম না-করে তিনি জানান, তিনি ইতিমধ্যেই অভিষেকের সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে। শুভেন্দু বলেন, “মাননীয় ভাইপোবাবু, কালই কলকাতা কর্পোরেশন থেকে আপনার প্রপার্টির লিস্ট আনালাম। আপনার ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ নামক সংস্থার ২৪টি প্রপার্টি (সম্পত্তি) রয়েছে কলকাতায়! আর, আমতলায় রয়েছে প্রাসাদের মতো অফিস! এবার সবকিছুর হিসাব হবে।”
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার মাধ্যমেই দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা লেনদেন করা বা কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। যদিও তৃণমূল সাংসদ এই অভিযোগ বারবার নস্যাৎ করেছেন। শুভেন্দু এদিন আরও বলেন, “পৃথিবীটা গোল। চিরদিনই কাহারো সমান নাহি যায়। ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর পুলিশকে ব্যবহার করে আমার সভায় আসা লোকগুলোকে কীভাবে মেরেছিলেন, আমি ভুলিনি। মানুষ বিচার চেয়েছে বলেই আজ এই চেয়ারে বসিয়েছে। এটা শুধু নামের বা রঙের বদল নয়, এটা বাংলার দ্বিতীয় স্বাধীনতা।”
আর জি করের ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতি ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে ইতিমধ্যেই পূর্বতন সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তিন আইপিএস (IPS) অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে শুভেন্দুর নতুন সরকার। সেই প্রসঙ্গে টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অভয়ার ঘটনায় আগের মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় যাঁরা অত্যাচার করেছেন, প্রমাণ লোপাট করেছেন এবং অভয়ার মাকে ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন, সেই তিন আইপিএস সাসপেন্ড হয়েছেন। ক্যানিং ও বারুইপুরে বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচার করার অপরাধে ওখানকার আইসি-দেরও সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ জেলায় কাউকে ছাড়া হবে না।”
পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাল থেকে খাতা-পেন নিয়ে বসতে হবে। গত ৫ বছর বা তারও আগে যত অত্যাচার হয়েছে, সব এফআইআর নিতে হবে। শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, “প্রধানমন্ত্রী আবাসের বাড়ি, আমফানের টাকা, কৃষকবন্ধু, বার্ধক্যভাতা বা ১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, সেই পঞ্চুবাবুদের এবার সোজা জেলে ঢোকানো হবে। মহিলাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনকারীরা ‘জয় বাংলা’ বলে ঘুরে বেড়ালে তাদেরও রেয়াত করা হবে না।”
শুভেন্দু অধিকারীর এই ঝোড়ো আক্রমণের জবাবে পাল্টা মুখ খুলেছেন তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। আর জি কর ইস্যুতে শুভেন্দুর পদক্ষেপকে কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, “আর জি করের ঘটনায় পুলিশ যাকে গ্রেফতার করেছিল, সিবিআইও তাকে ছাড়া আর কাউকে পায়নি। এখন নতুন সরকার এসে পুলিশকে সাসপেন্ড করছে। আর জি করের সময় যেসব মনগড়া কথা ও রটনা উঠছিল, সেই ‘উইশলিস্ট’ পূরণ করতেই কি এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে?”
অন্যদিকে, অভিষেকের ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সম্পত্তি নিয়ে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, “লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস দলের কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। তাই, দলের মুখপাত্র হিসাবে এ নিয়ে আমি কোনও বিবৃতি দেব না। ওই সংস্থা এবং সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই এ নিয়ে যা বলার বলবেন।”

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন