কলকাতা: অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন। শুরুতে সৌজন্যের আবহ থাকলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা বদলে গেল রণক্ষেত্রে! সৌজন্যের পর্দা সরিয়ে ভোট-পরবর্তী হিংসা ইস্যুতে একে-অপরকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী তৃণমূল জমানার সন্ত্রাস নিয়ে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তোলেন।
স্পিকার নির্বাচনের পর বক্তব্য রাখতে উঠে রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও হিংসা নিয়ে সরব হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সরাসরি বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আপনারা বলেছিলেন ভয় নয় ভরসা দেবেন। কিন্তু, রাজ্যে এখন ভয় চারগুণ বেড়ে গিয়েছে। বহু মানুষ ঘরছাড়া। আমরা স্বেচ্ছাচারী শাসকের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।”
শোভনদেবের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেউ ঘরছাড়া এমন খবর তাঁর কাছে নেই। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ যদি সত্যিই ঘরছাড়া হন, তবে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে জানান।” এর সাথেই তিনি একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দেন। শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, “২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের সাড়ে ১২ হাজার এফআইআর-এ যাদের নাম নেই, কেবল তাদেরই স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার সসম্মানে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবে। কিন্তু, যাদের নাম এফআইআর-এ আছে, তাদের সোজা জেলে যেতে হবে।”
এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন নওশাদ সিদ্দিকি। ২০২১ সালের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “২০২১ সালে জেতার পর আমার মনে হয়েছিল ৬ মাসের মধ্যেই ইস্তফা দিয়ে দিই, যদি তাতে আমার দলের কর্মীরা অন্তত প্রাণে বাঁচে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারংবার চিঠি দিলেও কোনো জবাব পাওয়া যেত না। বিজেপি সরকারকে ‘দরাজ সার্টিফিকেট’ না দিলেও অহেতুক বিরোধিতা করবেন না বলেও এদিন স্পষ্ট করে দেন নওশাদ।
অধিবেশনের প্রথম দিনেই শাসক-বিরোধী এই সংঘাত বুঝিয়ে দিল, আগামী পাঁচবছর বিধানসভার অন্দর যথেষ্ট উত্তপ্ত থাকতে চলেছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন