Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বিধানসভার স্পিকারের কুর্সিতে কোচবিহারের রথীন্দ্রনাথ! কেন বিধানসভা ছাড়ল তৃণমূল?

বিধানসভার স্পিকারের কুর্সিতে কোচবিহারের রথীন্দ্রনাথ! কেন বিধানসভা ছাড়ল তৃণমূল?
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা হল শুক্রবার। প্রথা ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসাবে শপথ নিলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। দীর্ঘদিনের অলিখিত নিয়ম ভেঙে কোনও আইনজীবী বা আইনজ্ঞ নন, বরং পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং প্রথমবার বিধানসভায় পা রাখা রথীন্দ্রনাথের হাতেই উঠল বিধানসভার পরিচালনার দায়িত্ব।


শুক্রবার সকালে বিধানসভায় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের উপস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শাসকদল বিজেপির পক্ষ থেকে রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম প্রস্তাব করেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রস্তাব সমর্থন জানান প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এবং সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন রথীন্দ্রনাথ। এরপর মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি স্পিকারের নির্দিষ্ট আসনে বসেন।


নির্বাচন চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। তবে, রথীন্দ্রনাথ বসু নির্বাচিত হওয়ার পরই তাঁরা ফের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং এই নির্বাচনের কোনও সক্রিয় বিরোধিতা করেননি। বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁকে নতুন ইনিংসের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


শুভেচ্ছা বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশা প্রকাশ করেন, "আগামী পাঁচবছর এই বিধানসভা গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে। বিরোধীরা যেন কক্ষের মর্যাদা বজায় রাখেন এবং আলোচনার সুযোগ পান।" পাল্টা বক্তব্যে বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীরাও নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানান।


২০২৬-এর নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে বাজিমাত করেছেন রথীন্দ্রনাথ। দীর্ঘকাল আরএসএস-এর সক্রিয় সদস্য হিসাবে কাজ করার পর নির্বাচনী রাজনীতিতে যোগ দেন এই চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তাঁর মনোনয়ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে চমক ছিল। কারণ, বিধানসভার স্পিকার পদে সাধারণত কোনও আইনজীবীকেই দেখার প্রথা রয়েছে। বিজেপি সেই প্রথা ভেঙে বুঝিয়ে দিল, অভিজ্ঞতার চেয়ে নিষ্ঠা ও প্রশাসনিক দক্ষতাই তাদের কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে।

বিষয় : BengalPolitics SuvenduAdhikari assemblyspeaker rathindrabasu

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বিধানসভার স্পিকারের কুর্সিতে কোচবিহারের রথীন্দ্রনাথ! কেন বিধানসভা ছাড়ল তৃণমূল?

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা হল শুক্রবার। প্রথা ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসাবে শপথ নিলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। দীর্ঘদিনের অলিখিত নিয়ম ভেঙে কোনও আইনজীবী বা আইনজ্ঞ নন, বরং পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং প্রথমবার বিধানসভায় পা রাখা রথীন্দ্রনাথের হাতেই উঠল বিধানসভার পরিচালনার দায়িত্ব।শুক্রবার সকালে বিধানসভায় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের উপস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শাসকদল বিজেপির পক্ষ থেকে রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম প্রস্তাব করেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই প্রস্তাব সমর্থন জানান প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এবং সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন রথীন্দ্রনাথ। এরপর মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি স্পিকারের নির্দিষ্ট আসনে বসেন।নির্বাচন চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। তবে, রথীন্দ্রনাথ বসু নির্বাচিত হওয়ার পরই তাঁরা ফের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং এই নির্বাচনের কোনও সক্রিয় বিরোধিতা করেননি। বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁকে নতুন ইনিংসের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।শুভেচ্ছা বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশা প্রকাশ করেন, "আগামী পাঁচবছর এই বিধানসভা গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে। বিরোধীরা যেন কক্ষের মর্যাদা বজায় রাখেন এবং আলোচনার সুযোগ পান।" পাল্টা বক্তব্যে বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীরাও নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানান।২০২৬-এর নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে বাজিমাত করেছেন রথীন্দ্রনাথ। দীর্ঘকাল আরএসএস-এর সক্রিয় সদস্য হিসাবে কাজ করার পর নির্বাচনী রাজনীতিতে যোগ দেন এই চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তাঁর মনোনয়ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে চমক ছিল। কারণ, বিধানসভার স্পিকার পদে সাধারণত কোনও আইনজীবীকেই দেখার প্রথা রয়েছে। বিজেপি সেই প্রথা ভেঙে বুঝিয়ে দিল, অভিজ্ঞতার চেয়ে নিষ্ঠা ও প্রশাসনিক দক্ষতাই তাদের কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার