কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই আন্তর্জাতিক মহলে বাড়তে শুরু করেছে রাজ্যের গুরুত্ব! দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতি কাটিয়ে অবশেষে কলকাতায় পা রাখতে পারেন কোনও হাই-প্রোফাইল মার্কিন প্রতিনিধি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহল সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষ দিকে ভারত সফরে আসা মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো তিলোত্তমা নগরীতেও এক ঝলক দেখা দিতে পারেন! রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কেবল একটি সফর নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানচিত্রে বাংলার ‘বনবাস’ কাটানোর ইঙ্গিত!
প্রসঙ্গত, রামায়ণে রামচন্দ্রের ১৪ বছরের বনবাসের উল্লেখ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও ঠিক ১৪ বছর আগে শেষবার কোনও মার্কিন বিদেশ সচিব পা রেখেছিলেন। ২০১২ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে মহাকরণে এসেছিলেন হিলারি ক্লিন্টন। তারপর থেকে নরেন্দ্র মোদী জমানায় বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রপ্রধানরা ভারতে এলেও কলকাতা কার্যত ব্রাত্যই থেকেছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন ‘রামপন্থী’ সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচদিনের মাথায় রুবিয়োর এই সফরের খবর তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে দাবি কূটনৈতিক বিশ্লেষক মহলের একাংশের।
আগামী ২৪ থেকে ২৬ মে ভারত সফরে থাকছেন মার্কো রুবিয়ো। দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও কোয়াড (QUAD) বিদেশ মন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। ইরান যুদ্ধের আবহে এই সফর যখন বিশ্বজুড়ে চর্চিত, ঠিক তখনই তাঁর কলকাতা ছুঁয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কলকাতার মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলও পরোক্ষভাবে এই সফরের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা বিদেশ সচিবকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
কলকাতার রাজপথে বিদেশি অতিথিদের বিক্ষোভ দেখানোর ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৬৮ সালে বিশ্বব্যাঙ্ক প্রধান রবার্ট ম্যাকনামারাকে বামেদের বিক্ষোভের মুখে হেলিকপ্টারে শহর ছাড়তে হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে মাদার টেরেসার শেষকৃত্যে হিলারি ক্লিন্টন বা রানি সোফিয়ারা এলেও তা ছিল অরাজনৈতিক। ফলে, এক দশকেরও বেশি সময় পর কোনও শীর্ষ মার্কিন কর্তার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সফর বাংলার ভাবমূর্তিতে আমূল বদল আনতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, রুবিয়ো যদি সত্যিই কলকাতায় আসেন, তবে তা স্পষ্ট করে দেবে যে নবান্নে ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ব কূটনীতির রাডারে ফিরে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন