ওয়াশিংটন: মেটা কিংবা ইউটিউবের পর এবার কাঠগড়ায় জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স। ব্যবহারকারীদের নেশাগ্রস্ত করে রাখা এবং গোপনে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে এই বিনোদন সংস্থার বিরুদ্ধে দায়ের হল মামলা। আমেরিকার টেক্সাস প্রদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের কার্যালয় থেকে এই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। মূল অভিযোগ হল — নেটফ্লিক্স কেবল সিনেমা দেখায় না, সে নাকি ইউজারদের ব্যক্তিগত জীবনের উপর কড়া নজরদারিও চালায়!
টেক্সাস প্রশাসনের অভিযোগ, নেটফ্লিক্স তার ইউজারদের সম্মতি ছাড়াই ব্যক্তিগত ডেটা বা তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ‘ডার্ক প্যাটার্ন’। এটি এমন এক কৌশল যার মাধ্যমে ইউজারদের পছন্দ-অপছন্দ বিশ্লেষণ করে তাঁদের সামনে এমন কনটেন্ট সাজিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে আটকে থাকেন। অভিযোগপত্রে সরাসরি বলা হয়েছে, "নেটফ্লিক্সের খেলাটা খুব সহজ — শিশু-সহ গোটা পরিবারকে স্ক্রিনের সামনে আচ্ছন্ন করে রাখো, তাদের তথ্য হাতাও এবং তা থেকে বিপুল মুনাফা কর।"
মামলাকারীদের দাবি, নেটফ্লিক্স দেখার সময় গ্রাহকরা যেমন পর্দায় ডুবে থাকেন, ঠিক একইভাবে পর্দার ওপার থেকে গ্রাহকদের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখে এই স্ট্রিমিং অ্যাপ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নজরদারি আক্ষরিক অর্থে সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে দেখা নয়। এটি মূলত একটি অলঙ্কারিক উক্তি। আসলে গ্রাহক কোন ধরনের সিনেমা দেখছেন, কতক্ষণ বিরতি নিচ্ছেন বা কোন অংশটি বারবার দেখছেন — এই আচরণবিধি পর্যবেক্ষণ করে অ্যালগরিদম। সেই অনুযায়ী ইউজারদের হোম পেজ এমনভাবে সাজানো হয় যাতে তাঁরা একপ্রকার ‘নেশাগ্রস্ত’ হয়ে পড়েন!
অভিযোগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিশুদের উপর এর প্রভাব নিয়ে। কমবয়সী ইউজারদের মনস্তত্ত্ব বুঝে তাদের ডিজিটাল দুনিয়ায় আটকে রাখার এই ফন্দি অত্যন্ত বিপদজনক বলে মনে করছেন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল। বিশ্বজুড়ে যেখানে ইউজার ডেটা প্রাইভেসি নিয়ে কড়াকড়ি বাড়ছে, সেখানে এই হাই-প্রোফাইল মামলা নেটফ্লিক্সের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন