Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

পুলিশের হেফাজত থেকেই গায়েব দেড় কোটির গ্যাস! মাস্টারমাইন্ড কে?

পুলিশের হেফাজত থেকেই গায়েব দেড় কোটির গ্যাস! মাস্টারমাইন্ড কে?
প্রতীকী ছবি

মহাসমুন্দ: খোদ সরকারি আধিকারিকের মদতে টন টন রান্নার গ্যাস চুরির এক চাঞ্চল্যকর চক্র ফাঁস হল ছত্তীসগড়ে! জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া ট্যাঙ্কার থেকেই গায়েব হয়ে গেল প্রায় ৯০ টন এলপিজি (LPG), যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা! এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক খাদ্য আধিকারিক ও গ্যাস ডিলার-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। মহাসমুন্দের সিংহোরা এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে গ্যাস বোঝাই ছয়টি রহস্যময় ট্যাঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ ছিল, একটি চক্র গোপনে ওই ট্যাঙ্কার থেকে গ্যাস চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি করছে। পুলিশ তখন ট্যাঙ্কারগুলি বাজেয়াপ্ত করলেও বিপত্তি ঘটে গত মার্চ মাসে। গরম বাড়তে থাকায় এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে পুলিশ ঝুঁকি এড়াতে ট্যাঙ্কারগুলি খাদ্য দফতরের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।


তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। ২০ মার্চ জেলাশাসকের নির্দেশে খাদ্য দফতর ট্যাঙ্কারগুলির দায়িত্ব বুঝে নেয়। কিন্তু, নিয়ম অনুযায়ী হস্তান্তরের আগে গ্যাসের ওজন পরীক্ষা করা হয়নি। পুলিশের অভিযোগ, ৩০ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে খাদ্য আধিকারিক অজয় যাদব এবং গ্যাস ডিলার পঙ্কজ চন্দ্রকরের যোগসাজশে ওই বিশাল পরিমাণ গ্যাস সরিয়ে ফেলা হয়! ৬ এপ্রিল লোক দেখানো ওজনের জন্য ট্যাঙ্কারগুলি দফতরে আনা হলেও ততক্ষণে আসল মাল গায়েব!


ট্যাঙ্কারের আসল মালিকরা যখন গাড়ি ফেরত নিতে আসেন, তখনই চুরির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ ট্যাঙ্কারগুলির জিপিএস ডাটা খতিয়ে দেখে। দেখা যায়, বাজেয়াপ্ত ট্যাঙ্কারগুলি মাঝপথে রায়পুরের এক এলপিজি সরবরাহকারী সংস্থার প্ল্যান্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

তদন্তকারীরা বিক্রয় রশিদ খতিয়ে দেখে জানতে পারেন, ওই সংস্থা এপ্রিলে মাত্র ৪৭ টন এলপিজি কিনেছিল। তাদের স্টকে আগে থেকে কোনও গ্যাস ছিল না। অথচ, রহস্যজনকভাবে ওই মাসে তারা ১০৭ টন গ্যাস বিক্রি করেছে!


মহাসমুন্দের পুলিশ সুপার প্রভাত কুমার জানিয়েছেন, এই জালিয়াতির পান্ডা খাদ্য আধিকারিক অজয় যাদব, গ্যাস ডিলার পঙ্কজ চন্দ্রকর এবং তাঁদের সহযোগী মণীশ চৌধুরীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, এলপিজি সরবরাহকারী সংস্থার মালিক সন্তোষ ঠাকুর এখনও পলাতক। পুলিশের নজরদারিতে থাকা ট্যাঙ্কার থেকে কীভাবে দেড় কোটির গ্যাস চুরি হল, তা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিষয় : LPGTHEFT CHATTISGARHCRIME SCAMALERT GOVERNMENTOFFICIALARRESTED

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


পুলিশের হেফাজত থেকেই গায়েব দেড় কোটির গ্যাস! মাস্টারমাইন্ড কে?

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image
মহাসমুন্দ: খোদ সরকারি আধিকারিকের মদতে টন টন রান্নার গ্যাস চুরির এক চাঞ্চল্যকর চক্র ফাঁস হল ছত্তীসগড়ে! জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া ট্যাঙ্কার থেকেই গায়েব হয়ে গেল প্রায় ৯০ টন এলপিজি (LPG), যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা! এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক খাদ্য আধিকারিক ও গ্যাস ডিলার-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। মহাসমুন্দের সিংহোরা এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে গ্যাস বোঝাই ছয়টি রহস্যময় ট্যাঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ ছিল, একটি চক্র গোপনে ওই ট্যাঙ্কার থেকে গ্যাস চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি করছে। পুলিশ তখন ট্যাঙ্কারগুলি বাজেয়াপ্ত করলেও বিপত্তি ঘটে গত মার্চ মাসে। গরম বাড়তে থাকায় এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে পুলিশ ঝুঁকি এড়াতে ট্যাঙ্কারগুলি খাদ্য দফতরের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। ২০ মার্চ জেলাশাসকের নির্দেশে খাদ্য দফতর ট্যাঙ্কারগুলির দায়িত্ব বুঝে নেয়। কিন্তু, নিয়ম অনুযায়ী হস্তান্তরের আগে গ্যাসের ওজন পরীক্ষা করা হয়নি। পুলিশের অভিযোগ, ৩০ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে খাদ্য আধিকারিক অজয় যাদব এবং গ্যাস ডিলার পঙ্কজ চন্দ্রকরের যোগসাজশে ওই বিশাল পরিমাণ গ্যাস সরিয়ে ফেলা হয়! ৬ এপ্রিল লোক দেখানো ওজনের জন্য ট্যাঙ্কারগুলি দফতরে আনা হলেও ততক্ষণে আসল মাল গায়েব!ট্যাঙ্কারের আসল মালিকরা যখন গাড়ি ফেরত নিতে আসেন, তখনই চুরির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ ট্যাঙ্কারগুলির জিপিএস ডাটা খতিয়ে দেখে। দেখা যায়, বাজেয়াপ্ত ট্যাঙ্কারগুলি মাঝপথে রায়পুরের এক এলপিজি সরবরাহকারী সংস্থার প্ল্যান্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।তদন্তকারীরা বিক্রয় রশিদ খতিয়ে দেখে জানতে পারেন, ওই সংস্থা এপ্রিলে মাত্র ৪৭ টন এলপিজি কিনেছিল। তাদের স্টকে আগে থেকে কোনও গ্যাস ছিল না। অথচ, রহস্যজনকভাবে ওই মাসে তারা ১০৭ টন গ্যাস বিক্রি করেছে!মহাসমুন্দের পুলিশ সুপার প্রভাত কুমার জানিয়েছেন, এই জালিয়াতির পান্ডা খাদ্য আধিকারিক অজয় যাদব, গ্যাস ডিলার পঙ্কজ চন্দ্রকর এবং তাঁদের সহযোগী মণীশ চৌধুরীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, এলপিজি সরবরাহকারী সংস্থার মালিক সন্তোষ ঠাকুর এখনও পলাতক। পুলিশের নজরদারিতে থাকা ট্যাঙ্কার থেকে কীভাবে দেড় কোটির গ্যাস চুরি হল, তা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার