Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ভোটকুশলী না কি ভস্মাসুর? আইপ্যাকের ‘প্যাক প্যাক’-ই কি ডোবাল মমতার তরী!

ভোটকুশলী না কি ভস্মাসুর? আইপ্যাকের ‘প্যাক প্যাক’-ই কি ডোবাল মমতার তরী!
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর এখন ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে দলের অন্দরেই। আর, সেই ময়নাতদন্তে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে একদা প্রশান্ত কিশোরের হাতে গড়া আইপ্যাক-কে (I-PAC)! অভিযোগ উঠছে, যে পেশাদার সংস্থা একসময় মমতাকে ‘সঞ্জীবনী’ দিয়েছিল, সেই সংস্থাই শেষমেশ ‘ক্যামাক স্ট্রিটের’ স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে দলের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে! তৃণমূলের পোড়খাওয়া নেতাদের মতে, আইপ্যাক আসলে দলের নয়, বরং সমান্তরাল একটি ‘সচিবালয়’ হিসাবে কাজ করছিল।


আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তাদের ‘অবাঙালি’ মানসিকতা। গত লোকসভা ভোটের পর থেকেই এই সংস্থায় এমন কিছু মুখ আমদানি করা হয়েছিল, যাদের সঙ্গে বাংলার মাটির কোনও যোগ নেই। এমনকী, এক জনপ্রিয় মুখপাত্রের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে আইপ্যাকের এক সদস্য সরাসরি জানিয়েছিলেন — “হামকো বাঙ্গালি সমঝ মে নেহি আতা”। যারা ভাষা বোঝে না, তারা বাঙালির পাল্স বুঝবে কীভাবে? এই প্রশ্নই এখন বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে!


তদন্তে উঠে আসছে আইপ্যাকের উদ্ভট সব প্রচার কৌশলের কথা। ভোটের মুখে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে লুডো খেলার নিদান দিয়েছিল এই সংস্থা, যেখানে তৃণমূলের উন্নয়ন ছিল ‘সিঁড়ি’ আর বিরোধীরা ছিল ‘সাপ’। বাস্তববুদ্ধিহীন এই প্রকল্পে কর্মীদের সংগঠনের কাজ লাটে উঠেছিল। এছাড়া, বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরজায় স্টিকার লাগানোর নির্দেশও সাধারণ মানুষের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের পাল্স বোঝেন, আইপ্যাক শুধু ডেটা বোঝে।”


কাল হলো কি সীমাহীন বিশ্বাস?

২০১৯-এর ধাক্কার পর ‘দিদিকে বলো’ বা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো প্রকল্পে আইপ্যাকের সাফল্য দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের ওপর অগাধ আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু সেই আস্থাই কাল হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অভিযোগ, প্রতীক জৈনের মতো আইপ্যাক কর্তাদের হাতেই চলে গিয়েছিল প্রার্থী নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা। কালীঘাটের বদলে ‘ক্যামাক স্ট্রিটের’ আপ্তসহায়ক ও আইপ্যাকের ‘মার্কশিট’ দেখে প্রার্থী ঠিক হওয়ায় দলের আদি ও নব্যের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়।


তৃণমূলের অন্দরে চর্চা চলছে, আইপ্যাকের উপর ইডি হানার পরই কি তারা কেন্দ্রের সঙ্গে ‘আপস’ করে নিয়েছিল? প্রথম দফা ভোটের আগে মাঝরাতের ইমেল বা আর জি কর কাণ্ডের সময় আইপ্যাকের রহস্যজনক নীরবতা সেই জল্পনাই উস্কে দিচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এরা ছিল ‘সুখের পায়রা’। ভোটটা হয়েছে মমতার মুখ দেখেই। কিন্তু, ক্রেডিট নিয়ে গিয়েছে আইপ্যাক। আর যখন বিপদে দল ডুবল, তখন সেই পেশাদার সংস্থাকে দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।


সব মিলিয়ে, আইপ্যাকের ‘ডিজিট্যাল রাজনীতি’ আর মাটির মানুষের লড়াইয়ের মধ্যেকার ফারাকটাই কি ২০২৬-এ তৃণমূলের পতনের মূল কারণ? উত্তর খুঁজছে তিলোত্তমা।

বিষয় : WestBengalElection ipac TMCVSBJP MamataBanerjee, AbhishekBanerjee

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ভোটকুশলী না কি ভস্মাসুর? আইপ্যাকের ‘প্যাক প্যাক’-ই কি ডোবাল মমতার তরী!

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর এখন ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে দলের অন্দরেই। আর, সেই ময়নাতদন্তে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে একদা প্রশান্ত কিশোরের হাতে গড়া আইপ্যাক-কে (I-PAC)! অভিযোগ উঠছে, যে পেশাদার সংস্থা একসময় মমতাকে ‘সঞ্জীবনী’ দিয়েছিল, সেই সংস্থাই শেষমেশ ‘ক্যামাক স্ট্রিটের’ স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে দলের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে! তৃণমূলের পোড়খাওয়া নেতাদের মতে, আইপ্যাক আসলে দলের নয়, বরং সমান্তরাল একটি ‘সচিবালয়’ হিসাবে কাজ করছিল।আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তাদের ‘অবাঙালি’ মানসিকতা। গত লোকসভা ভোটের পর থেকেই এই সংস্থায় এমন কিছু মুখ আমদানি করা হয়েছিল, যাদের সঙ্গে বাংলার মাটির কোনও যোগ নেই। এমনকী, এক জনপ্রিয় মুখপাত্রের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে আইপ্যাকের এক সদস্য সরাসরি জানিয়েছিলেন — “হামকো বাঙ্গালি সমঝ মে নেহি আতা”। যারা ভাষা বোঝে না, তারা বাঙালির পাল্স বুঝবে কীভাবে? এই প্রশ্নই এখন বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে!তদন্তে উঠে আসছে আইপ্যাকের উদ্ভট সব প্রচার কৌশলের কথা। ভোটের মুখে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে লুডো খেলার নিদান দিয়েছিল এই সংস্থা, যেখানে তৃণমূলের উন্নয়ন ছিল ‘সিঁড়ি’ আর বিরোধীরা ছিল ‘সাপ’। বাস্তববুদ্ধিহীন এই প্রকল্পে কর্মীদের সংগঠনের কাজ লাটে উঠেছিল। এছাড়া, বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরজায় স্টিকার লাগানোর নির্দেশও সাধারণ মানুষের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের পাল্স বোঝেন, আইপ্যাক শুধু ডেটা বোঝে।”কাল হলো কি সীমাহীন বিশ্বাস?২০১৯-এর ধাক্কার পর ‘দিদিকে বলো’ বা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো প্রকল্পে আইপ্যাকের সাফল্য দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের ওপর অগাধ আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু সেই আস্থাই কাল হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অভিযোগ, প্রতীক জৈনের মতো আইপ্যাক কর্তাদের হাতেই চলে গিয়েছিল প্রার্থী নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষমতা। কালীঘাটের বদলে ‘ক্যামাক স্ট্রিটের’ আপ্তসহায়ক ও আইপ্যাকের ‘মার্কশিট’ দেখে প্রার্থী ঠিক হওয়ায় দলের আদি ও নব্যের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়।তৃণমূলের অন্দরে চর্চা চলছে, আইপ্যাকের উপর ইডি হানার পরই কি তারা কেন্দ্রের সঙ্গে ‘আপস’ করে নিয়েছিল? প্রথম দফা ভোটের আগে মাঝরাতের ইমেল বা আর জি কর কাণ্ডের সময় আইপ্যাকের রহস্যজনক নীরবতা সেই জল্পনাই উস্কে দিচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এরা ছিল ‘সুখের পায়রা’। ভোটটা হয়েছে মমতার মুখ দেখেই। কিন্তু, ক্রেডিট নিয়ে গিয়েছে আইপ্যাক। আর যখন বিপদে দল ডুবল, তখন সেই পেশাদার সংস্থাকে দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।সব মিলিয়ে, আইপ্যাকের ‘ডিজিট্যাল রাজনীতি’ আর মাটির মানুষের লড়াইয়ের মধ্যেকার ফারাকটাই কি ২০২৬-এ তৃণমূলের পতনের মূল কারণ? উত্তর খুঁজছে তিলোত্তমা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার