কলকাতা: বাংলায় ক্ষমতার অলিন্দে পালাবদল ঘটতেই এবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্বাস্থ্য ভবনে। বিগত সরকারের আমলে হওয়া স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক ‘দুর্নীতি’র প্রমাণ কি তবে নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে? এমনই আশঙ্কায় সরব হয়েছে চিকিৎসকদের যৌথ মঞ্চ বা ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স’। মঙ্গলবার এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে চিঠি দিয়েছেন চিকিৎসক নেতারা।
সোমবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন নিশ্চিত হয়েছে। আর, তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ডা. পুণ্যব্রত গুণ এবং ডা. হীরালাল কোনাররা দাবি তুলেছেন, স্বাস্থ্য দফতর এবং স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক বছরে যা যা দুর্নীতি হয়েছে, তা ধামাচাপা দিতে ফাইল উধাও করে দিতে পারেন বিদায়ী প্রশাসনের কিছু ঘনিষ্ঠ আধিকারিক। ডা. উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "দুর্নীতির জাল থেকে বাঁচতে নথি লোপাটের চেষ্টা হতে পারে। তাই, এখনই সমস্ত ফাইল ও গুরুত্বপূর্ণ নথি অপরিবর্তিত অবস্থায় সংরক্ষণ করা জরুরি।"
বছর দেড়েক আগে আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একাধিক অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, আর জি কর থেকে শুরু করে টেন্ডার দুর্নীতি - সবকিছুরই নাটের গুরুরা এখন তথ্য মুছে ফেলার সুযোগ খুঁজছেন!
এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নবান্নও কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে নেই। মুখ্যসচিবের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি দফতর থেকে বেরনোর সময় প্রত্যেকের তল্লাশি নেওয়া হবে। কিন্তু, চিকিৎসকদের মঞ্চ চাইছে আরও কঠোর সুরক্ষা। তাঁদের আর্জি, স্বাস্থ্য ভবনের ভিতর থাকা প্রতিটি সামগ্রী যেন সুরক্ষিত থাকে এবং সন্দেহভাজন আধিকারিকরা যেন কোনওভাবেই নথিপত্রে হাত দিতে না পারেন। রাজ্যের এই টালমাটাল অবস্থায় স্বাস্থ্য ভবনের অন্দরে এখন কার্যত অঘোষিত যুদ্ধের আবহ!

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন