কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই খুলতে শুরু করেছে পুরনো জট! বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় নিশ্চিত হতেই 'মেসি-কাণ্ড' নিয়ে মুখ খুললেন ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনায় অভিযুক্ত শতদ্রুর দাবি, এত দিন প্রাণভয়ে এবং পরিবারকে বাঁচাতে তিনি মুখ খোলেননি। কিন্তু এখন ‘সময়’ বদলেছে।
অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় সংক্রান্ত একটি ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে শতদ্রু সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে লিখেছেন, “তোমার খেলা শেষ, এবার আমার খেলা শুরু।” তাঁর এই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শতদ্রু দত্ত দাবি করেছেন, গত বছর মেসির কলকাতা সফরের সময় তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, মাঠে প্রবেশের বিশেষ কার্ড বা পাস জোগান দিতে তাঁর সংস্থাকে বাধ্য করা হয়েছিল। রাজি না হওয়ায় তাঁকে একটি ঘরে আটকে রেখে ভয় দেখানো হয়। গ্রেফতার হওয়ার পর জেলে থাকাকালীন তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, মুখ খুললে তাঁর পরিবারকে ‘শেষ’ করে দেওয়া হবে। শতদ্রুর কথায়, “আমি গত কয়েক মাস প্রতি মুহূর্ত এই আতঙ্ক নিয়ে বেঁচেছি। আমার তিন বছরের পরিশ্রমে জল ঢেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, এবার সত্যি সামনে আসবে। আমি ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করতে চলেছি।”
উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর মেসি যখন কলকাতায় আসেন, তখন সাধারণ দর্শকরা হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখতে পাননি বলে অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং অন্য প্রভাবশালীরা সারাক্ষণ মেসিকে ঘিরে রেখেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই দর্শকরা ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা শুরু করেন। যার জেরে গ্রেফতার হতে হয় শতদ্রু দত্তকে। ৩৭ দিন জেল খাটার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
অরূপের নাম সরাসরি না নিলেও, তাঁর হারের পরই শতদ্রুর এই ‘অল আউট’ আক্রমণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, মেসির সেই বিতর্কিত সফর নিয়ে এবার অনেক অজানা তথ্য হয়তো জনসমক্ষে আসতে চলেছে!

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন