কলকাতা: ৩ মে, ২০২৬: সাত বছর ধরে বিদেশে গা ঢাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় অবশেষে সিবিআই-এর জালে ধরা পড়লেন কলকাতার প্রখ্যাত গয়না ব্যবসায়ী ও প্রোমোটার কমলেশ পারেখ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে তাঁকে পাকড়াও করে ভারতে নিয়ে আসা হয়েছে। ২৫টি ব্যাঙ্কের কনসোর্টিয়াম থেকে প্রায় ২,৬৭২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাকে কলকাতায় এনে জেরা করার প্রস্তুতি শুরু করেছে।
সিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা তথ্য। ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নেতৃত্বাধীন ওই ব্যাঙ্ক কনসোর্টিয়াম থেকে বিপুল ঋণ নিয়েছিলেন কমলেশ ও তাঁর সঙ্গীরা। সেই টাকা ব্যবসায় কাজে না লাগিয়ে বিদেশে একাধিক ‘শেল কোম্পানি’ বা ভুঁইফোড় সংস্থা খুলে সেখানে পাচার করে দেওয়া হতো। রপ্তানি ব্যবসার আড়ালে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও এই চক্রের জাল ছড়িয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।
২০১৬ সালে সিবিআই এই জালিয়াতি মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু তদন্ত শুরু হতেই দেশ ছেড়ে পালান কমলেশ। ২০১৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় এবং ২০২২ সালে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। দীর্ঘ সময় ধরে স্বরাষ্ট্র ও বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় চালিয়ে অবশেষে দুবাই কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাঁকে ভারতে ফেরাতে সফল হলো কেন্দ্রীয় সংস্থা।
গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও গোয়েন্দাদের সামনে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— ওই ২,৬৭২ কোটি টাকা বর্তমানে ঠিক কোথায় রয়েছে? সেই টাকার কত অংশ খরচ করা হয়েছে এবং কতটা উদ্ধার করা সম্ভব, তা জানতে মরিয়া সিবিআই। ধৃত ব্যবসায়ীকে জেরা করে এই আন্তর্জাতিক আর্থিক চক্রের আরও বড় কোনো চাঁইয়ের নাম উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন