কলকাতা: ৪ মে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ। তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর চব্বিশ পরগনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দমদম ও ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার গণনা পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হল রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি তথা বর্তমানে তৃণমূল সাংসদ রাজীব কুমারকে। শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকে এই হাই-প্রোফাইল নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে জোড়াফুল শিবির।
শনিবারের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, শুধু রাজীব কুমার নন, রাজ্যজুড়ে প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা ধরে ধরে বিশেষ গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। যেমন -
রাজীব কুমার: দমদম ও ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা।
দীপক অধিকারী (দেব): ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা।
জুন মালিয়া: মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা।
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনেও বিশেষ কিছু আসনে এই একই কৌশলে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বা শান্তনু সেনদের পাঠিয়ে সাফল্য পেয়েছিল তৃণমূল। এবারও সেই অভিজ্ঞতার উপরেই ভরসা রাখলেন মমতা-অভিষেক।
গত ৩১ জানুয়ারি রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ থেকে অবসর নেন রাজীব কুমার। পরবর্তীতে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করে তৃণমূল কংগ্রেস। সাংসদ হওয়ার পর এটিই রাজীব কুমারের প্রথম বড় সাংগঠনিক দায়িত্ব। ব্যারাকপুর ও দমদমের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় গণনার দিন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা কারচুপি রুখতে তাঁর পুলিশি অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগাতে চাইছে দল।
এদিনের বৈঠকে এক্সিট পোল নিয়ে কর্মীদের বিশেষ সতর্ক করেছেন মমতা ও অভিষেক। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, শেয়ার বাজার চাঙ্গা করতেই বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। ২০২১ এবং ২০২৪ সালেও একই পথে হেঁটেছিল বিরোধীরা। কাউন্টিং এজেন্টরা যাতে কোনওভাবেই মনোবল না হারান এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রে টিকে থাকেন, সেই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে শনিবারের বৈঠকে।
মমতা সাফ জানিয়েছেন, গণনার দিন তৃণমূলের রণকৌশল হবে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও সতর্ক। রাজীব কুমারের মতো কুশলী ব্যক্তিত্বের উপর ভরসা করে দল আদতে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিতে চাইল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন